ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:১১

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন

দুদকের নজরদারিতে ৯ উন্নয়ন প্রকল্প

8607_dudok.jpg
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ৯টি উন্নয়ন প্রকল্পে নজরদারি শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে কেনাকাটায় অনিয়ম (মিস প্রকিউরমেন্ট) ও অযোগ্য ব্যয় (ইনইলিগেবল এক্সপেনডিচার) ঘোষণা করায় এসব প্রকল্পে বিশেষ নজরদারির উদ্যোগ নেয় দুদক।

এজন্য প্রকল্পগুলোর তথ্য চেয়ে ২৪ অক্টোবর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দেয় সংস্থাটি। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ অক্টোবর জবাব দিয়েছে ইআরডি।

চিঠিতে বলা হয়, প্রকল্পগুলো সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ এরই মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্বব্যাংক উইং প্রধান মাহমুদা বেগম বলেন, যেসব প্রকল্পের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ তুলেছিল, সেগুলো এরই মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

কোনো কোনো প্রকল্পের অভিযোগ করা অংশের টাকা বিশ্বব্যাংকের কাছে ফেরতও দেয়া হয়েছে। তাই নিষ্পত্তির বিষয়টি দুদককে জানিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুদক চাইলে আবারও এসব প্রকল্পের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারে। সেটি অবশ্য দুদকের বিষয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করেছি। ওই অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। কোনোটি আবার বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করেছি। এ রকম ৩৫টি প্রকল্পে অভিযোগ থাকলেও অনেক কষ্টে সেগুলো সমাধান করতে পেরেছি। আমি মনে করি, এটি ইআরডির সাফল্য।

ইআরডি সূত্র জানায়, দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইআরডি থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (অযোগ্য ব্যয়), ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট এবং এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্ট (দুটিতেই কেনাকাটায় অনিয়ম ও অযোগ্য ব্যয়), হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন-২ প্রজেক্ট এবং ডিজঅ্যাবেলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাট রিস্ক প্রজেক্ট (অযোগ্য ব্যয়), ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন প্রজেক্ট এবং সেকেন্ড রুরাল ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (কেনাকাটায় অনিয়ম)।

এছাড়া লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রকল্পের ক্ষেত্রে আউটস্ট্যানডিং ডেজিগনেট অ্যাকাউন্ট রিফার্ড ঘোষণা করা হয়।

এসব প্রকল্পের কোনোটির ক্ষেত্রে ইআরডি বলেছে, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে টাকা জমা দেয়া হয়েছে (অর্থ ফেরত)। আবার কোনোটির ক্ষেত্রে বলেছে নিষ্পত্তি হয়েছে। একত্রে বলা হচ্ছে, সব প্রকল্পের অভিযোগই নিষ্পত্তি হয়েছে।

সূত্র জানায়, ডিজঅ্যাবেলিটি অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাট রিস্ক প্রজেক্টে ৩০ লাখ ৪২ হাজার টাকা কেনাকাটায় অনিয়ম ঘোষণা করা হয়।

২০১৫ সালের ৩০ জুন তা ফেরত দিতে চিঠি দেয় বিশ্বব্যাংক। এ অবস্থায় বিশ্বব্যাংককে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। কিন্তু তা নাকচ করে দেয় সংস্থাটি।

প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শেষ হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে টাকা ফেরত দিতে ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর অর্থ বিভাগে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়।

স্ট্রেনদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ড লাইফ প্রটেকশন প্রজেক্টের দুটি প্যাকেজে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৭৫ টাকা এবং ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকা অযোগ্য ব্যয় (ইলিগেবল) হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্বব্যাংক।

২০১৫ সালের ১৫ মার্চ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। এতে কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তী সময়ে বন ও পরিবেশ অধিদফতরকে তদন্তের নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।

তদন্তে অনিয়ম না পাওয়ায় ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় অভিযোগ প্রত্যাহারের অনুরোধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক তা আমলে নেয়নি এবং অভিযোগ প্রত্যাহারও করেনি।

এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৩ সালের জুনে শেষ হয়। এর আগে বিশ্বব্যাংকের কেনাকাটায় অনিয়মের অর্থ সংস্থাটির নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে ফেরত দেয়া হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক ক্লোজার লেটার জারি করে। কিন্তু ক্লোজার লেটার জারি করার পর নতুন করে তিন কোটি ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৯৩৯ টাকা কেনাকাটায় অনিয়ম ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে ইআরডির মাধ্যমে ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর বিশ্বব্যাংককে জানানো হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়- মতামত গ্রহণযোগ্য নয়। অবশেষে এ অর্থ ফেরত দেয়া হয়।

সেকেন্ড লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-২) শীর্ষক প্রকল্পটিতে দুটি বিষয়ে পর্যালোচনা তুলে ধরে কেনাকাটায় অনিয়ম ঘোষণা করে বিশ্বব্যাংক। ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইআরডিতে পাঠায় সংস্থাটি। সুত্র : যুগান্তর