ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:১১

দ্য হিমালয়ান টাইমস

রহস্যে মোড়ানো পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু

8641_5.....jpg
নেপালে পুলিশ হেফাজতে ৪৮ বছর বয়সী এক মৃত্যুর ঘটনায় রহস্য দানা বেঁধে উঠেছে। গত ৪ নভেম্বর তারেকশ্বর পৌরসভার বাসিন্দা রবিন্দ্র কুমার ধুঙ্গানাকে গ্রেফতার করেন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক সুরেন্দ্র কার্কি।

পরেরদিন তিনি মারা গেলে পুলিশের তরফে বলা হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তার। পরিবারের পক্ষ থেকে ছয়দিন পর তা মরদেহ গ্রহণ করে সৎকার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সুরেন্দ্র কার্কির তরফ থেকে রবিন্দ্রর পরিবারকে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপি দেওয়ার পর এই মৃত্যুর ঘটনায় মীমাংসা হয়েছে। এই খবরটিকে প্রধান শিরোনাম করেছে নেপালের প্রথম সারির সংবাদপত্র দ্য হিমালয়ান টাইমস।

হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, দুই বছর আগে পুলিশ সদস্য কার্কির কাছ থেকে উচ্চ সুদে ৫ লাখ রুপি ধার নিয়েছিলেন রবিন্দ্রর স্ত্রী অন্নপূর্ণা থাপা ধুঙ্গানা। সেই ঋণ শোধ নিয়ে বিপাকে থাকা রবিন্দ্রর পরিবারকে নতুন করে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপি দেওয়ার ঘটনা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন রবিন্দ্রর স্ত্রী অন্নপূর্ণা।

হিমালয়ান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঋণ শোধ করতে কার্কিকে একটি ব্যাংক চেক দেন রবিন্দ্র ধুঙ্গানা। তবে সেই চেক প্রত্যাখ্যাত হলে তারেকশ্বর পুলিশ স্টেশনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন কার্কি। ৪ নভেম্বর পুলিশ সদস্যদের নিয়ে রবিন্দ্রকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন কার্কি। সম্প্রতি রবিন্দ্রর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছিলো। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন তিনি।

ওই থানার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ডিএসপি বোগাতি বলেছেন, রবিন্দ্রকে আদালতে হাজিরের আগেই ৫ নভেম্বর ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত বীর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা সাড়ে বারোটায় মারা যান রবিন্দ্র। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৪ নভেম্বর পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে নিয়মিত পরীক্ষার জন্য রবিন্দ্রকে বালাজুর পিপলস জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে তিনি নিজের অসুস্থতা সম্পর্কে কিছুই জানাননি বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশের বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে অন্যায় আচরণের অভিযোগ তুলে ছয়দিন পর্যন্ত স্বামীর মরদেহ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে থাকেন অন্নপূর্ণা। তবে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে হিমালয়ান টাইমস বলছে, কার্কির কাছ থেকে ২ লাখ ৭০ হাজার রুপি নেওয়ার পর স্বামীর মরদেহ গ্রহণ করে সৎকারে সম্মতি দেন অন্নপূর্ণা।

রবিন্দ্রর মৃত্যুর কারণ ও ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।