ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৭ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১১

প্রশ্ন ‘হার্ড’ হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করলেন নেতা

8646_8.jpg
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন পদের বিপরীতে নিয়োগ পরীক্ষা কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতাদের হামলা ও বাধার মুখে স্থগিত হয়ে গেছে। এ ঘটনায় সিবিএর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আসামি করে মামলা করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

নেতারা পরীক্ষা চলাকালীন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে তাদের গাড়ির চাবি আটকে রাখে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন খুব হার্ড (কঠিন) হয়েছে। তাই তিনি এর প্রতিবাদ করে পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছেন।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও মধ্যরাতের দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য, গতকাল বেলা ১১টায় খুলনার নৌবাহিনী স্কুলে বন্দরে নয়টি ক্যাটাগরিতে ৪০টি পদের নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। এ সময় তিনটি ধাপের প্রথম ধাপের পরীক্ষায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ ঘোষণায় সিবিএ নেতাদের মনোনীতরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় তারা পরের ধাপের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে সিবিএর সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু ও কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী পরীক্ষা বন্ধ করে দেন।

এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান, পরিচালক (প্রশাসন) প্রণব কুমার রায়, নিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ) আফসানা ইয়াসমিন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নজরুল ইসলাম, বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওহিউদ্দিন চৌধুরী, যান্ত্রিক ও তড়িৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান শাহ চৌধুরী এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আব্দুল আলীমকে লাঞ্ছিত করেন বলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, এ সময় তাদের গাড়ির চাবি নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষাকেন্দ্র ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক (কর্ম) সালাউদ্দিন কবির বাদী হয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘের কার্যকরী সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টুকে আসামি করে খুলনার খালিশপুর থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক কাজী খুরশিদ আলম পল্টু বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে বন্দরের ইতিহাসে লিখিত পরীক্ষায় কোনোদিন হার্ড (কঠিন) প্রশ্ন করা হয়নি। কিন্তু এবার যে প্রশ্ন করা হয়েছে তাতে অনেকেই উত্তীর্ণ হতে না পারায় আমি প্রতিবাদ জানিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছি।’

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে সিবিএ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়নি।’

বন্দর সূত্র জানায়, পাম্প ড্রাইভার পাঁচজন, গাড়িচালক আটজন, গ্রিজার কাম পাম্প ড্রাইভার দুজন, কার্য সহকারী পদে দুজন, জাহাজের প্রথম শ্রেণির চালক দুজন, দ্বিতীয় শ্রেণির চালক তিনজন ও ফোরম্যান পদে একজনসহ মোট ৪০টি পদে নিয়োগ পরীক্ষার কথা ছিল। সিবিএ নেতাদের বাধার মুখে তা স্থগিত করা হয়েছে।