ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

১৮ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১১

সাদ কান্ধলভিকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

8667_7.jpg
মাওলানা সাদ (ফাইল ছবি)
দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন দর্শন ও জীবনব্যবস্থা। এতে কোনো অসম্পূর্ণতা, কোনো খুঁত বা অস্পষ্টতা নেই। কিন্তু দিল্লির নিজামুদ্দিনের মাওলানা সাদ কান্ধলভি একতরফাভাবে নিজেকে আমির ঘোষণা করে ইসলামি আকিদাবিরোধী বিভ্রান্তিকর মতবাদ প্রচার করছেন। তিনি কুরআনে কারিমের মনগড়া ব্যাখ্যা করছেন। এজন্য তার ও তার অনুসারীদের কোনো সিদ্ধান্ত বা ফয়সালা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা যাবে না।

গতকাল রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসা মাঠে এক ওয়াজাহাতি জোড় অনুষ্ঠানে তারা এ কথা বলেন। সাদ কান্ধলভির মতাদর্শকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনে ওলামায়ে কেরামের অবস্থান সুস্পষ্ট করতে এ ওয়াজাহাতি জোড়ের আয়োজন করা হয়। গুলশান, বনানী, ভাটারা, বাড্ডা, খিলক্ষেত থানার উলামায়ে কেরাম ও তাবলিগ জামাতের সাথী ভাইয়েরা এ জোড়ের আয়োজন করেন।

এতে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন : জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, কাকরাইল কেন্দ্রীয় মার্কাজ মসজিদের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা যোবায়ের, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার শায়খুল হাদিস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বিশিষ্ট মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া-মুহাম্মদপুরের শায়খুল হাদিস মাওলানা মনসূরুল হক, মারকাযুদ্দাওয়া আল ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুল মালেক, শায়েখ জাকারিয়া ইসলামিক রিচার্স সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার নায়েবে মুহতামিম হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, ইসলামিক রিচার্স সেন্টার বসুন্ধরার মুফতি মাওলানা এনামুল হক ও মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম, মসজিদে তাকওয়া-উত্তরার খতিব মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, দারুল উলূম টঙ্গীর মুহতামিম মাওলানা মাসউদুল করীম এবং জামেয়া ইসলামিয়া মেফতাহুল উলূম মধ্য বাড্ডার পরিচালক মাওলানা আবুল হাসান প্রমুখ।

উলামায়ে কেরাম বলেন, ইসলামের মহান দিকনির্দেশকদের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনেই হজরত মাওলানা ইলিয়াছ রাহ:-এর পরিচালনায় ওলামায়ে কেরামের পরামর্শে চলে আসছিল দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ। তার অবর্তমানে হজরত মাওলানা ইউসুফ রাহ: এবং হজরত এনামুল হাসান রাহ: ছিলেন একই পথের পথিক। কোনো বিভ্রান্তির শিকার তারা হননি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় নিজে নিজে আমির হয়ে গিয়ে কয়েক বছর ধরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন মাওলানা সা’দ। তার সৃষ্ট মৌলিক তিনটি বিভ্রান্তি হলো-১. তিনি শ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব কুরআনে কারিমের মনগড়া ব্যাখ্যা করছেন। ২. তাবলিগের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি দীন প্রতিষ্ঠা ও প্রচারের অন্যান্য অপরিহার্য কর্মসূচিগুলোকে হেয় করার অপচেষ্টায় মেতেছেন এবং ৩. তিনি তাবলিগের ধারার মাঝে এমন কিছু ঢুকিয়েছেন, যা কুরআন-সুন্নাহ এবং পূর্ব মুরুব্বিগণের উত্তম আদর্শের খেলাফ।

তারা বলেন, এসব বিভ্রান্তি তাবলিগের মোবারক মেহনতের উন্নতির পথে অন্তরায় এবং মুসলিম সমাজে অনৈক্য, বিশৃঙ্খলা ও গোমরাহী সৃষ্টির কারণ বলে প্রমাণিত হচ্ছে। এজন্য ওজাহাতি জোড়ে তার ও তার অনুসারীদের কোনো সিদ্ধান্ত বা ফয়সালা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন না করাসহ আট দফা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।