ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:১১

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় হযরত মুহাম্মদ (সা.)

8734_Kalima.jpeg
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও কল্যাণের প্রতীক। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ এই ধরাধামে প্রেরণ করেছেন। রাসুল (সা.)  বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তা সভ্যতার ইতিহাসে নজীরবিহীন। নবী করিম (সা.)-কে শান্তি, মুক্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্য বিশ্ববাসীর রহমত হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র কালামে হাকীমে বলা হয়েছে,  ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতরূপে প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) তাই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বশান্তির স্মারক হয়ে আছেন এবং থাকবেন।
ÔThe Hundred’ গ্রন্থে মাইকেল এইচ হার্ট রাসুল (সা.) সর্বযুগের ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, Ô My choice of Muhammad to lead the list of the world’s most influential persons may surprise some readers and may be questioned by others , but he was the only man in history who was supremely successful on both religious and secular levels.’
 আল্লাহ তা’য়ালা যুগে যুগে মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে বিভিন্ন গোত্রের নিকট নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। তিনি  অপরাপর নবী-রাসুলদের বিভিন্ন গোত্রের জন্য বা নির্দৃষ্ট এলাকার জন্য প্রেরণ করলেও রাসুল (সঃ) কে শেষ নবী হিসাবে সমগ্র বিশ্ব মানবতার জন্য প্রেরণ করেছেন। আর সে মিশনে তিনি পুরোপুরি সফলও হয়েছেন।  আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-  ‘‘আমরা আপনাকে সমগ্র মানব জাতির জন্যই সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী বানিয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা বোঝে না।” (সুরা সাবা-২৮)।     সুরা ফাতাহর ২৮ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন,  “তিনি আল্লাহ যিনি তার রাসুলকে হিদায়ত ও সত্য জীবন ব্যবস্থা সহ পঠিয়েছেন, যেন তিনি এ দ্বীনকে সমস্ত বাতিল ব্যবস্থা সমূহের উপর বিজয়ী করেন। আর সত্য প্রতিষ্ঠাতা রূপে আল্লাহর যথেষ্ঠ।”
ঘোর তমসাচ্ছন্ন মানব জাতিকে হেদায়াত ও বিশ্বময় সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসুল (সা.)কে দুনিয়াতে পাঠিয়েছিলেন। তিনি যে মানব জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হবেন তা প্রাক-নবুয়াতি যুগেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বস্তুত সমাজে অনাচার, অবক্ষয় ও অশান্তি দেখে রাসুল (স.) মর্মপীড়ায় ভুগতেন এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটা যৌক্তিক উপায় খুঁজে বের করতে মনোনিবেশ করেছিলেন। মূলত নবুয়াতের পূর্বে দীর্ঘ দিন ধরে আওস ও খাজরাস গ্রোত্রের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধে তিনি মর্মাহত হন। এ রক্ষক্ষয়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধ থেকে বিবাদমান গ্রোত্রগুলোকে  বিরত করে নিরীহ মানুষের জানমালের হেফাজতের জন্য উদ্যোমী ও শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে “হিলফুল ফুযুল” নামে একটি শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
মহানবী প্রাক নবুয়াতকালীন সময়ে  ‘হিলফুল ফুজুল’ নামের শান্তিসংঘ প্রতিষ্ঠা করে অন্যায়, অনিয়ম, অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। গণমানুষের কল্যাণে তাঁর গড়া স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানটি পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম সাংগঠনিক রীতিতে প্রতিষ্ঠিত সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান। মহানবী (সা.) হিলফুল ফুজুল গঠনের মাধ্যমে মক্কা থেকে যাবতীয় অন্যায়-অত্যাচার, উগ্রবাদ  ও সন্ত্রাসবাদ উচ্ছেদ করে আদর্শ সমাজ গঠনে সচেষ্ট হন। ফলে সেখানে সার্বিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
মূলত ‘হারবুল ফিজার’ই বিশ্ব শান্তির অগ্রসৈনিক বিশ্বনবী (সা.) এর মনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।  যুদ্ধ থেকে ফিরে তিনি সমবয়সী তরুণদের একত্রিত করে অন্যায় যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থার যাতাকল থেকে মানুষকে মুক্ত করার জন্য কি করা যায় তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। আলোচনার পর গঠিত হয় ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক একটি শান্তি সংঘ। যা সভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ স্থান দখল করে আছে। এ সংঘের সদস্যগণ প্রতিজ্ঞা করলেন :
১.    ‘আমরা সমাজের অশান্তি দূর করার  জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব’।
২.    ‘ভিনদেশীদের ধন-প্রাণ ও মান-সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব’।
৩.    ‘দরিদ্র ও অসহায় লোকদের সাহায্য করতে আমরা কখনো কুণ্ঠিত হবো না’।
৪.    ‘অত্যাচারী ও তার অত্যাচারকে দমিত করতে এবং দুর্বল মানুষদের অত্যাচারীর হাত থেকে রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা করব’।
রাসুল (স.) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত প্রাপ্তির পর কোরাইশদের চরম বাধা, জুলুম, নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হলেন। তায়েফে তিনি দ্বীনে হকের দাওয়াত দিতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হলেও তিনি তাদেরকে অভিশাপ দেন নি বরং তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন আল্লাহ তাকে বিশ্বজাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। রাসুল (সা.) কাফিরদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে এবং আল্লাহর নির্দেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সুবিধার্থে মদিনায় হিজরত করলেন। কিন্তু তিনি শান্তি ভঙ্গের মত কোন উগ্রপন্থা গ্রহণ করলেন না।
হিজরতের পর মদিনায় বসবাসরত মুসলমান, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজমান কলহ-বিবাদ, হিংসা-বিদ্বেষপূর্ণ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তিনি একটি ইসলামি সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার সংকল্প করেন। বিশ্বশান্তির অগ্রনায়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নাগরিকদের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখাসহ নানা দিক বিবেচনা করে মদিনার সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন যা মানব ইতিহাসের প্রথম প্রশাসনিক সংবিধান ‘মদিনা সনদ’।
মহানবী (সা.)-এর শান্তিপূর্ণ ‘মক্কা বিজয়’ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে অদ্বিতীয় ঘটনা। বস্তুত তিনি বিনা যুদ্ধে ও রক্তপাতহীনভাবে মক্কা বিজয় সম্পন্ন করেন। শত অত্যাচার-নির্যাতন ও যুদ্ধ করে আজীবন যে জাতি নবী করিম (সা.)-কে সীমাহীন কষ্ট দিয়েছে, সেসব জাতি ও গোত্রকে মক্কা বিজয়ের দিন অতুলনীয় ক্ষমা প্রদর্শন করে এবং তাদের সঙ্গে উদার মনোভাব দেখিয়ে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেন। যদি তিনি প্রতিশোধ পরায়ণ হতেন তাহলে মক্কা বিজয়ের সময় ভিন্নতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারতো এবং ব্যাপক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতো। কিন্তু তিনি সে পথে অগ্রসর হননি বরং পরম শত্রুদের ক্ষমা করে মানবেতিহাসে এক অনন্য নজীব স্থাপন করেছেন। যা ইতিহাসে তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছে। 
ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায় Ó In the long long history of he world there is no instance of magnamity and forgiveness which can approach those of muhammad (S.) when all his enemies lay at his feet and he forgave them one and all Fracois Voltaire ‘.
 বলা যায়-রাসুল (সা) সে বিশ^ শান্তির অগ্রদূত এবং সর্বযুগের ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহামানব ছিলেন তা বিশ^ সাহিত্য পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সভ্যতার ইতিহাসে দ্বিতীয় কোন ব্যক্তিকে এভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।  ১৭৫১ খ্রিষ্টাব্দে Fracois Voltaire এর Les Mouerset lespiriteles Nations পুস্তকে  মহানবী (স.)কে জ্ঞানী ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদরূপে স্বীকৃতি দেয়া হয়।  ১৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে Johann jakob Reiske  রাসুল (স.)কে একজন ঐশীপ্রাপ্ত মহামানব, ১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দে প্যারিসে প্রকাশিত বি Henri Comtede Boulainvillers রচিত Viedo Mohomet……  এ তাকে বিশ্বশান্তির অগ্রপথিক হিসেবে চিহ্নিত করা-এসবই প্রমাণ করে মুহাম্মদ (সা:) এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যাকে না পেলে বিশ্ব অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তিনি নিজেই নিজের তুলনা। ১৭০৮ সালে Simon Ockley weiwPZ History of the Saracens গ্রন্থে বলা হয়, মহানবী (সা:) তরবারীর মাধ্যমে ধর্ম প্রচার করেননি। যা বিশ্বে তাকে শান্তির দূত হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে।
ইউরোপীয় ঐতিহাসিকগণ স্বীকার করেছেন যে, “যুদ্ধ বিজয়ের সকল ঐতিহাসিক বিবরণীতে মহানবী (সা) এর বিজয়ীর বেশে মক্কা নগরীতে প্রবেশের মতো দৃশ্য আর দেখা যায় না।” বিশ্ব ইতিহাস মহানবী (সা) এর মতো ব্যক্তিত্ব এখনো পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারেনি। যাঁর ছিল ক্ষমা করার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। বস্তুত মক্কা বিজয় ছিল ইসলামের এক অনন্য বিজয়। মহানবী (সা) দ্বীনের উদ্দেশ্যে অটল, বিশ্বাসের বিজয়, শত্রুকে ক্ষমা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন।
মাত্র ২৩ বছরের নবুয়াতি জীবনে অনেক যুদ্ধের মোকাবিলা করতে হয়েছে তাঁকে। অথচ কোন যুদ্ধই আক্রমণাত্মক যুদ্ধ ছিল না। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) ২৭টি প্রতিরোধমূলক যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সাহাবিদের নেতৃত্বে ৫৭টি অভিযান পরিচালনা করেন। ইসলামের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের পর মহানবী (সা.) বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে সংলাপ, সমঝোতা করে অসংখ্য চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। যা বিশ্বশান্তি  প্রতিষ্ঠায় বিরাট অবদান রাখে।
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবী জর্জ বার্ণাডশ এর ভাষায়, ÔI believe that if a man like prophet Muhammad was to assume the dictatorship of modern world, would success in solving it`s problem in a way that would being in men needed peace and happiness’.
রাসুল (সা.) মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সেখানে একটি শান্তির সমাজ উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। ফলে অপরাধ প্রবণতা এতটাই হ্রাস পেয়েছিল যে, হযরত আবু বকর (রা.) এর আড়াই বছর শাসনামলে আদালতে কোন মামলাই দায়ের হয়নি। মুহাম্মদ (সা.) এমন এক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের গ্যারাণ্টি দেয়া হয়েছিল। যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে মানুষের অধিকার ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত।
রাসুল (সা) বিশ্বজাহানে শান্তি প্রতিষ্ঠার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি সকল ক্ষেত্রেই সফল ও সার্থক হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক গিবনের ভাষায় বলা যায়- If all the world was united under one leader, Muhammad would have been the best fitted man to lead the peoples of various creeds, dogmas and ideas to peace and happiness.
মদিনায় হিজরতের পর মহানবী (সা.) সেখানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর নিরাপত্তা ও কল্যাণের স্বার্থে কতগুলো ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তার মধ্যে মদীনার সনদ অন্যতম।  এ সনদে মোট ৪৭টি ধারা ছিল। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিন্ন মত ও পথের মানুষদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে মদীনা ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, শর্তের ভিত্তিতে মদীনা রাষ্ট্র প্রতিষ্টা হয়েছিল সে শর্ত গুলো অবলোকন করলে বোঝা যায় রাসুল (সা) শান্তি প্রতিষ্ঠায় কত মহৎ ও উদার ছিলেন।
৬২২ খ্রিস্ট্রাব্দে মদীনায় হিযরতের অব্যাবহিত পর মহানবী (সা.) পারস্পরিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত বিভিন্ন গোত্র-উপগোত্র ও ধর্মমতের জনগোষ্ঠীকে একই বিধিবদ্ধ আইনের অধীনে আনার জন্য প্রণয়ন করেন ‘মদীনা সনদ’ (The Charter of Madinah) । এটাই ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান। এর পূর্বে শাসকের মুখোচ্চারিত কথাই ছিল রাষ্ট্রীয় আইন। ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এটাই ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের শাসনীতি। ইতিহাস প্রমাণ করে এই ঐতিহাসিক সনদবিভিন্ন সমপ্রদায়ের মধ্যে বিবাদমান কলহ ও অন্তর্ঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সমপ্রীতি, প্রগতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
উগ্র সামপ্রদায়িকতা, গোত্রীয় দম্ভ, ধর্ম বিদ্বেষ ও অঞ্চল প্রীতি মানবতার শত্রু ও প্রগতির অন্তরায়। মদীনা সনদ এ দুষ্ট ক্ষতগুলোকে মুছে ফেলে এবং সামাজিক নিরাপত্তা, অসামপ্রদায়িক চেতনা ও রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। সনদের প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা করলে মহানবী (সা.)-এর মানবাধিকার ঘোষণার প্রকৃষ্টপরিচয় প্রতিভাত হয়। ১২১৫ সালের ম্যাগনা কার্টা, ১৬২৮ সালের পিটিশন অব রাইট ১৬৭৯ সালের হেবিয়াস কর্পাস অ্যাক্ট, ১৬৮৯ সালের বিল অব রাইটস এবং ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights)  এর চৌদ্দশত বছর আগে মানবতার ঝান্ডাবাহী মহানবী (সা.) সর্বপ্রথম মানুষের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অধিকার ঘোষণা করেন। পরস্পর বিরোধী ধর্ম সমপ্রদায়ের মধ্যেমহানবী (সা.) কর্তৃক সম্পাদিত এ সনদ সমগ্র মানবমন্ডলী ও অখন্ড মানবতার এক চূড়ান্ত উত্তরণ।
মহানবী (স.) যে বিশ^শান্তির অগ্রদূত ছিলেন তা তিনি তার কর্মময় ও ঘটনাবহুল জীবনের সকল ক্ষেত্রে সফল ও সার্থকভাবে প্রমাণ করেছেন। ৬ষ্ট হিজরীর জিলকদ মাসে রাসুল (সঃ) স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে বায়তুল্লাহ শরীফ জিয়ারতের জন্য চৌদ্দ শ সাহাবীকে সাথে নিয়ে মক্কার  উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। তিনি কুরাইশদের ষড়যন্ত্রের খবর জানতে পেরে হুদাইবিয়া নামক স্থানে পৌঁছে যাত্রা বিরতি করলেন। কুরাইশরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে প্রস্তুতি নিয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে রাসুল (সা.) কুরাইশদের কাছে তার শুধুমাত্র বায়তুল্লাহ শরীফ জিয়ারতের অভিপ্রায়ের কথা ব্যক্ত করেন। কিন্তু যুদ্ধবাজ কুরাইশরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলো। শেষ পর্যন্ত শান্তি তথা যুদ্ধ এড়ানোর জন্যই রাসুল (সা.) কুরাইশদের সাথে সন্ধি স্থাপনের আলোচনার জন্য  হযরত উসমান (রা) মক্কায় পাঠালেন। কিন্তু  হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে কাফিররা হযরত উসমান (রা) কে আটক করে রাখলো।
এদিকে কুরাইশরা হযরত ওসমান (রা)কে হত্যা করেছে মর্মে গুজব ছড়িয়ে পড়লো। রাসুল (স)এ সংবাদ পাওয়া মাত্র হযরত ওসমান (রা) এর হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণের প্রত্যয় ঘোষণা করলেন এবং সাহাবীদের কাছ থেকে এই মর্মে শপথ গ্রহণ করলেন : ‘আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো, তবু লড়াই থেকে পিছু হটবো না। কুরাইশদের কাছ থেকে আমরা হযরত উসমান (রা) এর রক্তের বদলা নেবোই।’ এই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা মুসলমানদের মধ্যে এক আশ্চর্যজনক উদ্দীপনার সৃষ্টি করলো। তারা শাহাদাতের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে কাফিরদের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে প্রস্তুত হলেন। এরই নাম হচ্ছে বায়াতুর রিদোয়ান বা ‘রিযওয়ানের শপথ’। কুরআন পাকে এই শপথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সে সব ভাগ্যবান ব্যক্তি এ সময় হযরত (সা) এর পবিত্র হাতে হাত রেখে শপথ গ্রহণ করেছিলেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁদেরকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
মুসলমানদের প্রত্যয় ও  যুদ্ধ প্রস্তুতির খবর পেয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে কুরাইশরা সন্ধি করতে রাজী হলো। উভয় পক্ষে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সন্ধির শর্তাবলী নির্ধারিত হলো। সন্ধিপত্র লেখার জন্যে হযরত আলী (রা) কে ডাকা হলো। সন্ধিপত্রে যখন লেখা হলো ‘এই সন্ধি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সা) এর তরফ থেকে’ তখন কুরাইশ প্রতিনিধি সুহাইল প্রতিবাদ জানিয়ে বললো : ‘আল্লাহর রাসুল (সা)’ কথাটি লেখা যাবে না। একথায় সাহাবীদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হলো। কিন্তু রাসুল (সা) নানাদিক বিবেচনায় এবং রক্তপাত এড়িয়ে শান্তির স্বার্থেই কুরাইশদের দাবি মেনে নিলেন এবং নিজের পবিত্র হাতে ‘আল্লাহর রাসূল’ কথাটি কেটে দিয়েছিলেন। মূল এই সন্ধির মাধ্যমে যেমন একটি অনাকাঙ্খিত যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে মুসলমানদের পক্ষে এর প্রভাবও ছিল সুদুরপ্রসারী। যা পরবর্তীতে ইসলামের বিজয়ের পথকে সুগম ও অবধারিত করে তুলেছিল। যা রাসুল (সা.) এর শান্তিপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে।
মূলত হুদায়বিয়ার সন্ধির গৃহীত ধারাগুলোই প্রমান করে রাসুল (সা) কত সহনশীল, শান্তিকামী, প্রজ্ঞাবান ও দুরদর্শি  ছিলেন। তিনি সাময়িক কষ্ট ও দৃশ্যত পরাজয় মেনে নিয়ে সংঘাতকে এড়িয়ে গিয়েছেন। যা বিশ^ ইতিহাসে তাকে অনন্য সাধারণ মর্যাদা দিয়েছে। হুদায়বিয়ার সন্ধির উল্লেখযোগ্য শর্ত হচেছ-
১. মুসলমানরা এ বছর হজ্জ না করেই ফিরে যাবে।
২. তারা আগামী বছর আসবে এবং মাত্র তিন দিন থেকে চলে যাবে।
৩. কেউ অস্ত্রপাতি নিয়ে আসবে না। শুধু তলোয়ার সঙ্গে রাখতে পারবে: কিন্তু তাও কোষবদ্ধ থাকবে, বাইরে বের করা যাবে না।
৪. মক্কায় সে সব মুসলমান অবশিষ্ট রয়েছে, তাদের কাউকে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না। আর কোনো মুসলমান মক্কায় ফিরে আসতে চাইলে তাকেও বাধা দেয়া যাবে না।
৫. কাফির বা মুসলমানদের মধ্য থেকে কেউ মদীনায় গেলে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু কোনো মুসলমান মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দেয়া হবে না।
৬. আরবের গোত্রগুলো মুসলমান বা কাফির যে কোনো পক্ষের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করতে পারবে।
৭. এ সন্ধি-চুক্তি দশ বছরকাল বহাল থাকবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যেদিন চূড়ান্তভাবে মক্কা বিজয়ের পর খানায়ে কাবার  চৌকাঠে হাত রেখে দাঁড়িয়ে, তখন তাঁর সামনে ছিল অতীতের সব জঘন্য অপরাধ নিয়ে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে ছিল মক্কার কাফিররা। চারপাশ ঘিরে নির্দেশের অপেক্ষায় তীক্ষ তরবারি হাতে মুসলিম সেনাদল। সেদিন মহানবী (সা.) বলতে পারতেন, ‘ওদের গর্দান উড়িয়ে দাও! যে হাত শান্তিকামী তাওহিদবাদীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছিল, ওই হাতগুলো কেটে দাও! যে চোখগুলো অসহায় মুসলমানদের দিকে হায়েনার হিংস্রতা নিয়ে তাকাত, সে চোখগুলো উপড়ে ফেলে দাও! যে মুখ আল্লাহ, তাঁর রাসুুল ও মুমিনদের বিরুদ্ধে শুধুই মিথ্যা অপবাদ, বিষোদগার আর কুৎসা রটনা করে বেড়াত, সে জিহ্বাগুলো কেটে ফেলে দাও!’
তিনি ঘোষণা করতে পারতেন, ‘আজ থেকে কোরাইশ জালিমদের পুরুষরা বিজয়ী মুসলিম বাহিনীর গোলাম আর নারীরা দাসী হিসেবে গণ্য হবে। আশ্চর্য হলো, কোরাইশরাও তাদের প্রাপ্য এমনটা হবে বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু মহানবী (সা.) তেমন কিছুই বলেননি। তিনি বলেছিলেন : ’ অর্থাৎ আজ তোমাদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ  নেই, তোমরা সবাই মুক্ত। এভাবেই মহানবী (সা.) একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বসমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বুনিয়াদ রচনা করে গিয়েছিলেন।
মূলত ইতিহাসের আলোকে রাসুল (সা.) ক্ষণজন্মা, মহান, কর্মতৎপর, দূরদ্রষ্টা, সত্যসন্ধ মহাপুরুষ হিসেবে প্রশংসিত, শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়–বরণীয়। এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার মতো প্রকাশনাও র্দ্ব্যথহীন ভাষায় স্বীকৃতি প্রদান করেছে যে, “ জগতের সকল ধর্ম প্রবর্তক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে তিনিই [হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)] হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা সফল।”
প্রফেসর লা মার্টিন তার ‘‘তুরস্কের ইতিহাস’’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “ কার এমন ধৃষ্টতা আছে যে, ইতিহাসের অন্য কোন মহামানবের সাথে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর তুলনা করতে পারে? প্রায় সব বিখ্যাত মানুষেরা যদি কিছু অর্জন করেই থাকে তা তো জাগতিক শক্তি সামর্থ্য বৈ কিছুই নয়, যা প্রায় ক্ষেত্রে তাদের সম্মুখেই টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই মহামানব [হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)] শুধুমাত্র সেনা বাহিনীই পরিচালনা করেননি, আইনই কেবল প্রণয়ন করেননি, রাজ্যই কেবল প্রতিষ্ঠা করেননি, জনসাধারণকেই কেবল সুসংগঠিত করেননি, কেবল খিলাফতের ধারাবাহিকতাই স্থাপন করেননি বরং তিনি সেই সময়কার জানা দুনিয়ার তিন ভাগের এক ভাগ অথবা ততোধিক জনপদের লাখ লাখ অধিবাসীর জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন।’
জার্মানীর প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ পন্ডিত ড. গুস্তাভ উইল মহানবী (সাঃ) কে বিশ্বে আইনপ্রণেতা, সমাজ সংস্কার ও বিশ^ শান্তির উজ্জল প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্ট্যানলি লেনপুল বলেছেন, ধর্ম ও সাধুতার প্রচারক হিসেবে মুহাম্মদ (সাঃ) যে রকম শ্রেষ্ট ছিলেন, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও ছিলেন অনুরূপ শ্রেষ্ট। তিনি অদ্ভুত শক্তিতে, হৃদয়ের উষ্ণতায়, অনুভূতির মাধুর্য ও শুদ্ধতায় ছিলেন বিশিষ্ট। জীবনে কাউকে তিনি আঘাত করেননি।
রাসুল (সা.) যে বিশ^শান্তির মহানায়ক ছিলেন তা তার শাসন ব্যবস্থার দিকে তাকালেই সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি যেসব মূলনীতি গ্রহণ করেছিলেন তা তার শান্তি প্রতিষ্ঠার মিশনে খুবই সহায়ক হয়েছিল। মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার সময়োপযোগী মূলনীতি এবং সে ক্ষেত্রেই সাফল্যই তাকে সর্বকালের ও সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যা একবিংশ শতাব্দীতে এসেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় আদর্শ। 
(১) স্বরাষ্ট্রনীতি : মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন শ্রেষ্ঠ রাজনীতিবিদ ও সফল এবং সার্থক রাষ্ট্রনায়ক। তিনি সকল নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণকেই রাষ্ট্র্রের মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। উগ্রবাদ নয় বরং সার্কিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ছিল স্বরাষ্ট্রনীতির মূলকথা।  যার ছিল না কোন নিয়মিত সৈন্যবাহিনী, না ছিল কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কর্মসূচী। অথচ তিনি এমন একটি আদর্শ রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করলেন, যার নিদর্শন আজও ইতিহাসে বিরল। প্রখ্যাত বৃটিশ মনীষী বার্নার্ডশ বলেন- If all the world was under one leader then Mohammad (sm) would have been the best fitted man to lead the peoples of various creed dogmas and ideas to peace and happiness. 
(২) সমরনীতি : রাসুল (সা.) ব্যক্তিগত জীবনে নম্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন ঠিক, কিন্তু আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার লক্ষক্ষ্যই সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। গোটা জাতিকে মুক্তির দিশা দেওয়ার জন্য সমরনীতির কর্মসূচী হাতে নিয়েছিলেন। যা ছিল খুবই ইনসাফপূর্ণ।
(৩) স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা : স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র হচ্ছে মহানবী (সা.) এর বিপ্লবের একটা মজ্জাগত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পদক্ষেপ। যে সাম্যমৈত্রী ও স্বাধীনতার জন্য খ্রিস্টান জগৎ বিপ্লবের দাবানলে বহুবার ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে, যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথিবীর গণ রক্তক্ষরণে কলঙ্কিত, সে গণতন্ত্র স্বাধীনতার এবং সাম্যই ইসলামের ব্যবহারিক জীবনের মূলভিত্তি। এখানে আমীর ফকিরের ভেদাভেদ মূলভিত্তি।
(৪) পররাষ্ট্রনীতি : মহানবী (সা.)  প্রেরিত হয়েছিলেন শান্তির বাণী নিয়ে বিশ্বে শান্তি স্থাপন করতে। তার পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র যুদ্ধ নয় শান্তি এবং কাউকে আগে আক্রমণ নয় বরং আক্রান্ত হলে তার সমূচিত জবাব। মূলত এটিই ছিল ইসলামী পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র। পারস্পরিক সহযোগিতা ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে বিশ্বের সকল মুসলমানকে এক করার উদ্দেশ্যে সর্বাবিধ উপায় অবলম্বন করাই ইসলামী রাষ্ট্রের কর্তব্য ও দায়িত্ব।
(৫) কূটনীতি : কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে হযরত (সা.) সার্থক ও শ্রেষ্ঠ আদর্শের নজীর স্থাপন করেছেন। আল্লাহপাক কালামে পাকে ইরশাদ করেছেন- জ্ঞান ও সদুপদেশ দ্বারা তোমার প্রভু আল্লাহর পথে আহবান কর এবং তাদের সাথে তর্ককালে উৎকৃষ্ট যুক্তির অবতারণা কর।  তিনি তার কূটনীতি কর্মসূচীর মাধ্যমে হুদাইবিয়া পরে মক্কা বিজয় করার মত কৌশল মানব অবলোকনে তুলে ধরেন।
(৬) অমুসলিমদের প্রতি আচরণ : অমুসলিম সংখ্যালঘুদের প্রতি সদাচরণ রাষ্ট্রনায়ক মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর অন্যতম মহান কীর্তি। অমুসলিমদের প্রতি তিনি সম্পূর্ণ মানবীয় অধিকার দিয়েছেন।  কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ নয় বা ধর্ম পালনের সকল ধর্মের লোকদের সুযোগ প্রদানদই রাসূলের তথা রাষ্ট্রজীবনের বড় কৃতিত্ব ছিল।
মূলত রাসুল (স.) এর মহীরূহতুল্য ব্যক্তিত্ব, কর্তব্য নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা, প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব, উদারতা, মানুভবতা সর্বোসরি গণমানুষের অধিকার রক্ষায় আপোষহীনতা ও সুশাসনই তদানীন্তন বিশ্বে শান্তি ও প্রগতির সমীরণ বয়ে দিয়েছিল। যা ইতিহাসে তাকে অন্যন্য সাধারণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সমানভাবে সফল ছিলেন। মূলত তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। সুরা কলমের ৪নং আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী। তার অনুপম চরিত্র মাধুর্য্যইে শক্তিতেই তিনি সফলতার চরম শিখরে আরোহন করেছিলেন।
ইসলাম শান্তি ধর্ম এবং  হযরত মুহাম্মদ (সা.) শান্তির বার্তাবাহক। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কালামে হাকীমের সুরা মায়েদার ৩ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন,‘ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। আমার নিয়ামত সমূহকে তোমাদের ওপর পূর্ণতা দান করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম’। মূলত ইকামাতে দ্বীনই হচ্ছে বিশ^শান্তি প্রতিষ্ঠায় একমাত্র ও অদ্বিতীয় মাধ্যম। আর বিশ^নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সে কাজটি সফল ও সার্থকভাবে করে দেখিয়েছেন। মাত্র ২৩ বছরের নবুয়াতি জিন্দিগীতে তিনি আইয়্যামের জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকার দূরীভূত করে একটি সর্বাঙ্গীন শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সমকালীন বিশ^ পরিস্থিতির ওপর।
লেখক ঃ কথাসাহিত্যিক ও কলামিষ্ট।