ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

২১ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:১১

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার উপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ

8755_ec.jpg
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে গত ৮ নবেম্বর। তারপরে ২ সপ্তাহ পার হলেও নির্বাচন কমিশন এমন কিছু দেখাতে বা করতে পারেনি যাতে তাদেরকে নিরপেক্ষ বলা সম্ভব। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি ৩৮ দিন । তা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ তৈরি তো হয়নি উপরন্তু ক্ষমতাসীন জোটের পুরোনো ও নতুন শরিকেরা যে ধরনের সুবিধা ভোগ করছে, তার বিপরীতে বিরোধীরা ততটাই প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। এখনো আওয়ামী লীগের সাজানো প্রশাসনই বহাল রয়েছে।মাঠপ্রশাসনে রদবদলের কোন উদ্যোগ ইসির আদৌ আছে বলে মনে হচ্ছেনা।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নূরুল হুদাও বলেছেন, এবার নতুন প্রেক্ষাপটে ভোট হচ্ছে। এই নির্বাচনের সার্থকতার ওপর ভবিষ্যতে দলীয় সরকার বহাল রেখে নির্বাচন হবে কি-না তা নির্ভর করছে।অথচ সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরীর কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছেনা।তাহলে স্পষ্ট বলা যায়,কমিশন জেনে বুঝেই ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করে চলেছে।

দুইদিন আগে ইসিতে ৪৭২ জন নেতাকর্মীর তালিকা জমা দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় মামলা তথ্য সংগ্রহকারী কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন খান। তালিকার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও দেয়া হয়।

ইসিতে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর বিএনপির ৪৭২ নেতাকর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতার করেছে।তালিকা জমা দেয়ার পর সালাহউদ্দিন খান বলেন, তফসিল পরবর্তী সময়ে বিএনপির ৪৭২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিপূর্বে কমিশন থেকে বলা হয়, তফসিলপরবর্তী সময় কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে তফসিলের পর গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের নাম-পদবিসহ তালিকা জমা দিতে বলে ইসি।তিনি বলেন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে নেতাকর্মীদের পদবিসহ নামের তালিকা জমা দেয়া হল।

লক্ষণীয় বিষয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিরোধীদের দমনে সরকারের যে ভূমিকা ছিল, এখন তা আরও কঠোর রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। নির্বাচন কমিশন যদিও সেসব বিষয়ে একধরনের নীরবতা পালনকেই যথাযথ বলে বিবেচনা করছে। কমিশনের ভূমিকায় মনে হচ্ছে, তারা যেনতেন প্রকারে নির্বাচন করতেই আগ্রহী। মুখে যা-ই বলুক না কেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন যে আগ্রহী, তাদের আচরণে সেটা মনে হচ্ছে না। বিরোধী দলের অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো প্রস্তুতি বা আগ্রহ তাদের আদৌ ছিল কি না, তাদের আচরণে এমন প্রশ্নও ওঠে।

এ রকম একটা পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ওপর যে দায়িত্ব বর্তায়, তা পালনের ব্যাপারে কমিশনের উৎসাহ প্রশ্নবিদ্ধ ছিল, এখন তা আরও বেশি প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন তার ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ করছে কি না বা সেটা করতে ইচ্ছুক কি না, সে প্রশ্নও বড় আকার ধারণ করছে।

একদিকে সংসদ সদস্য পদে থেকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা। নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও সরকারের সাজানো। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার ১৪ দিন চলে গেলেও প্রশাসন ও পুলিশে কোনো রদবদল আনার উদ্যোগ নেয়নি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশ মামলার আসামি হয়ে অনেকে কারাগারে, অনেকে ঘরে থাকতে পারছেন না। তফসিল ঘোষণার পরও বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হচ্ছে। ১৮ নভেম্বর বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে ২ হাজার ৪৭টি মামলার তালিকা দিয়েছে। দলটি বলেছে, ৮ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ৭৭৩ জন বিএনপির নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তার বন্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিএনপির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও তার কোনো ফল হয়নি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর দফায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না থাকায় প্রশাসন কমিশনের মত করে সাজানোর দায়িত্ব বর্তেছে কমিশনের ওপর। এ অবস্থায় ৯ নভেম্বর ৬৪টি জেলার ডেপুটি কমিশনার এবং দুজন ডিভিশনাল কমিশনারকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।তবে এরা সবাই আওয়ামী সরকার কর্তৃক নিযুক্ত। গত ৩১ জুলাই এবং ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার ৩৬টি জেলায় ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে; নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগের দিন ৭ নভেম্বর ২৩৫ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টকে পদোন্নতি দিয়ে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট করা হয়েছে।

নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে যাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা গোপনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার মতো কাজ করেছেন। এ নিয়ে খবরের পর ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বা ‘খবরের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বলে দেওয়া কমিশনের বক্তব্য কেবল দায় এড়ানোর লক্ষণ নয়, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের ব্যর্থতার উদাহরণ হয়ে উঠছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি পুলিশ–প্রশাসনে রদবদল আনার জন্য দুই দফায় কমিশনে দাবি জানিয়েছে। জবাবে কমিশন বলছে, ঢালাওভাবে বদলির প্রস্তাব করলে তা কমিশন গ্রহণ করবে না। কমিশনের এই অবস্থানে এই প্রশ্ন সামনে আসে যে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে কমিশনের সদিচ্ছা আদৌ আছে কি না।অভিজ্ঞ মহল বলছেন,তাহলে কমিশনের কাজ কি শুধু দলীয় সরকারের ছকমত নির্বচনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করা?

নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে যাঁরা দায়িত্ব পালন করবেন, তাঁদের প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এর উদ্দেশ্য হতে পারে, নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্র পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও যাতে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক হন এবং বিরোধী পক্ষের কেউ দায়িত্বে আসতে না পারেন, তা নিশ্চিত করা। আরেকটি উদ্দেশ্য হতে পারে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভীতসন্ত্রস্ত রাখা।বর্তমান পুলিশ প্রশাসন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অঘোষিত অস্ত্রধারী এই রাষ্ট্রীয় বাহিনীই ক্ষমতাসীনদের টিকিয়ে রেখেছে। এখনও যদি তারাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে অবাধ,নিরপেক্ষ নির্বাচনের বাণী কাগজেই থেকে যাবে। বাস্তবে হবেনা।

পুলিশের এই তৎপরতা নিয়ে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশন লুকোচুরি করছে। কমিশন দাবি করছে, তারা বিষয়টি জানে না। কিন্তু গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার পরও কমিশনকে পুলিশের এই তৎপরতার বিরুদ্ধে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। কমিশন যদি বলতে চায়, তাদের অজ্ঞাতেই পুলিশ ও প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিয়েছে; তাহলে তার অর্থ হচ্ছে তফসিল ঘোষণার পরে প্রশাসনের ওপরে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে বড় শহরগুলোতে একধরনের নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন দেখা গেছে। তাই এ প্রশ্নও সামনে আসছে যে একাদশ সংসদ নির্বাচনও কি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো হতে যাচ্ছে?

কমিশনের দায়িত্ব পালনের এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি ও ব্যর্থতা তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগকেই শক্তিশালী করছে। অবস্থাটি এ রকম যে মনোনয়নপ্রত্যাশী একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে আনীত মামলার কারণে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যেতে এ কারণে ভীত যে তাঁকে পথেই গুম করে ফেলা হতে পারে।

বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো দলীয় সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচন দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্নেষকরা। তাদের মতে, তিন দশক ধরে নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে চলমান রাজনৈতিক মতবিরোধ উত্তরণের সুযোগ এবার সৃষ্টি হয়েছে। ইসি যদি নিরপেক্ষ থেকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব বলিষ্ঠভাবে পালন করতে পারে তাহলে জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, যে কোনো দেশের তুলনায় আমাদের নির্বাচন কমিশনের আইনে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষমতা যদি তারা যথাযথভাবে প্রয়োগ করে তাহলে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন করা সম্ভব।

ইসি-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও তাতে ইসির ভূমিকা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হয়নি। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে তাদের দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। উল্টো একাধিক সিদ্ধান্ত ইসিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। নানা কারণে ইসির ব্যাপারে বিরোধীদলীয় নেতাদের মনে সন্দেহ বেড়েই চলেছে। অবশ্য ভিন্নমতও আছে অনেকের। তাদের মতে, ইসির একার পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্নিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. এম সাখাওয়াত হোসেন শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠ ইসির নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি-না সে সন্দেহ পোষণ করে বলেন, এখনও কিছুই শুরু হয়নি। অথচ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের বিষয়ে পুলিশ খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে। পুলিশকে এ দায়িত্ব কে দিয়েছে, তা ইসির খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ভোটের মাঠের নিয়ন্ত্রণ ইসির হাতে থাকবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে যা বোঝায় তার কিছুই এখনও তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে কীভাবে সুষ্ঠু ভোট করবেন তা ইসি সদস্যরাই ভালো বলতে পারবেন।

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণা থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপে বলা যায়, ইসি সঠিক পথে নেই। তফসিলের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেওয়া সব পদক্ষেপের পুরো দায়দায়িত্ব ইসির ওপর বর্তায়। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পরেও গায়েবি মামলা দায়ের অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে ইসির পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।

ড. বদিউল আরও বলেন, দেশের প্রায় সব উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পদ যেমন ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও থানার ওসি সবই বর্তমান এমপিদের পছন্দ অনুযায়ী ডিও লেটার (আধা সরকারি চাহিদাপত্র) দিয়ে পদায়ন করা। এসব এমপির বেশিরভাগই এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। তাদের পরিবর্তন না করা হলে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যাবে না। অধিকাংশ দলের আপত্তির পরও ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

এদিকে তফসিলের পরও 'গায়েবি' মামলা ও গ্রেফতার অব্যাহত থাকলেও ইসি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিএনপির অভিযোগ, তফসিলের পরেই সাত শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পরে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের কারণে দু'জন নিহত হয়। এসব ঘটনায় ইসি নির্বিকার থাকে। অন্যদিকে বিএনপি অফিসের সামনে একই ইস্যুতে আচরণবিধি লঙ্ঘন রোধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেয় ইসি।

এসব অভিযোগের জবাবে কমিশনার রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কমিশনের সামনে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেওয়া হবে এবং সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তারা আইনি কাঠামোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন যেভাবে হওয়া উচিত, আইনি কাঠামো সেভাবেই নির্ধারণ করে দেওয়া আছে। ইসি শুধু তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এর বাইরে যাওয়ার উপায় ইসির নেই।

বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া মামলার তালিকা ও মাঠ প্রশাসনে রদবদলের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে ইসি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া মামলার তালিকায় এক নম্বরে আদালতের দন্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং দুই নম্বরে খুনের মামলার আসামি থাকলে কমিশনের কিছুই করার নেই। তফসিলের পরে গায়েবি মামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তফসিলের পরে কেউ খুন হলে মামলা নেওয়া যাবে না- এমন তো কোনো কথা নেই।
স্মরণ করা যেতে পারে,এরশাদের পতনের পরে ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল তার আগে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ মাঠপ্রশাসন নিজের মত করে সাজিয়েছিলেন। কোন দলের মত করে তিনি করেননি।

১৯৯৬ সালে বিচারপতি হাবিবুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপত নিয়েই মাঠপশাসনে ব্যাপক রদবদল করেন।বিএনপির সাজানো প্রশাসন তছনছ করে দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আব্দুল মুয়িত চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয় শুধুমাত্র প্রশাসনে রদবদল করার জন্য। কমিটি সচিব থেকে শুরু করে টিএনও এবং তারও নীচে পর্যন্ত রদবদল করে নির্বাচনে নিরপেক্ষ প্রশাসন তৈরী করেন।২০০৮ সালেও তাই হয়েছে। বর্তমানে তত্তাবধায়ক সরকার নেই। তবে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারি হয়েছে।তাদেরকেই তত্তাবধায়ক সরকারের মত সব ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে সরকার রয়েছে তাদের দায়িত্ব শুধুই রুটিন কাজ সম্পন্ন করা। প্রশাসনে রদবদল করে নিরপেক্ষতা আনা,পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের নিয়ন্ত্রনে আনাসহ সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরী করার যথেষ্ট সুযোগ ইসির হাতে থাকলেও তারা অজানা কারণে তা করছেনা। শেখ হাসিনার সাজানো প্রশাসন বহাল রেখেই তারা যেন শুধুই একটা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা পালন করার দিকে এগিয়ে চলেছে।এমনটি চলতে থাকলে অবাধ,সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্টান যে সম্ভব নয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

লেখক- সাংবাদিক
shahidjournalist67@gmail.com