ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:১১

নির্বাচন ইস্যুতে বৈদেশিক সহায়তা কমেছে

8919_2.......jpg
জাতীয় নির্বাচনের আগে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়াকে নির্বাচনী তথা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাব মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর এ ৪ মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থছাড় করেছে ১৩২ কোটি ৯৭ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের এ ৪ মাসে ছাড় হয়েছিল ১৪৫ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। অর্থাৎ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্থছাড় কমেছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ডলার।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি এসেছে ৩৬১ কোটি ১১ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের এ ৪ মাসে প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৫৬৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

অর্থাৎ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ কমেছে ২০৩ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ধারণা করা যেতে পারে, অনিশ্চয়তার পাশাপাশি নির্বাচনী ডামাডোলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন কমে যাওয়াও বৈদেশিক অর্থছাড় কমে যাওয়ার একটি কারণ।

রাজনীতির সঙ্গে অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। তাই সংসদ নির্বাচনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য উদ্যোক্তারা আপাতত বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন।

ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। এমনকি সামান্য হলেও সুদের হার কমার পরও এ খাতে কমে গেছে ঋণের প্রবৃদ্ধি। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। কমে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি। আমদানি বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দা।

উদ্যোক্তারা বলছেন, আমদানি ব্যয় কমার কারণে আগামী দিনে বিশেষত রফতানি ও বাণিজ্য খাতে সাময়িক মন্দা দেখা দেবে। নির্বাচন সামনে রেখে অর্থ পাচারও বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পেছনেও কাজ করছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। এ অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে দেশে বিনিয়োগ করায় স্বস্তি বোধ করছেন না, বিদেশে পাচার করে দিচ্ছেন অর্থ।

নির্বাচনের আগে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করার বিষয়টি নতুন নয়। বিগত জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী অভিজ্ঞতা এ সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। তখন দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার বড় প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতে। আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

এ অনিশ্চয়তা যত দ্রুত কেটে যায়, দেশের জন্য ততই মঙ্গল। এজন্য দেশে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়া জরুরি। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দিতে হবে। দেশকে আর যেন অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়তে না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

অতীতে সহিংস রাজনীতি অনেক ক্ষতি করেছে দেশের। জানমালের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। তেমন পরিস্থিতি আর নয়। জনগণের স্বার্থে, অর্থনীতির স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, সর্বোপরি গণতন্ত্রের স্বার্থে সব পক্ষকে উদার দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো থাকা দরকার। তাহলে আর নির্বাচনকে ঘিরে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আমরা মনে করি, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দূর হতে পারে সব অনিশ্চয়তা।