ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

মিজানুর রহমান

২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১২

যে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে

9089_369139_172.jpg
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাইয়ের দিন ছিল আজ। এদিন বিভিন্ন কারণে বাতিল করা হয়েছে বেশ কিছু হেভিওয়েট প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র। সারা দেশের আলোচিত প্রার্থীদের তালিকা তুলে ধরা হলো।

খালেদা জিয়া

ফেনী-১ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারন উল্লেখ করা হয়েছে। একই অভিযোগে বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন পত্রও বাতিল হয়েছে।

গোলাম মাওলা রনি

পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘হলফনামায় প্রার্থীর স্বাক্ষরে একজন আইনজীবির প্রত্যয়ন দরকার হয়। তার হলফনামায় স্বাক্ষরও ছিল না এবং যেই আইনজীবির নাম উল্লেখিত ছিল তাকে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।’

রেজা কিবরিয়া

হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া; তার মনোনয়ন পত্রও বাতিল হয়েছে। ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের পাওনা বাকি থাকায় মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে মি. কিবরিয়ার।

কাদের সিদ্দিকী

টাঙ্গাইলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঋণ খেলাপির অভিযোগে একাদশ সংসদ নির্বাচনের টাঙ্গাইলের রিটার্নিং কর্মকতা ও জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কাদের সিদ্দিকীটাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল সখীপুর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

এম মোর্শেদ খান

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম মোরশেদ খানের মনোননয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসি কার্যকর হওয়া বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই ও ভাতিজার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) ও চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে সাকা চৌধুরীর ভাই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তাঁর ছেলে সামির কাদের চৌধুরী চট্টগ্রাম ৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। ঋণ খেলাপির অভিযোগে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

মীর নাছির

বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. নাছির উদ্দিন ও তাঁর ছেলে মীর মো. হেলাল উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন। মামলা রয়েছে উল্লেখ করে ওই দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
ব্যারিস্টার আমিনুল হক

ব্যারিস্টার আমিনুল হক
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মামলাসংক্রান্ত সার্টিফাইড কপি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

আফরোজা আব্বাস

ঢাকা-৯ আসনে প্রায় ৩ ঘণ্টা স্থগিত থাকার পর বাতিল হয়ে গেছে মির্জা আব্বাসের সহধর্মিনী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়নপত্র। তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ ছিল।

এছাড়াও যাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।....

• আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফ হোসেন।

• রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে দেয়া পদত্যাগপত্র জমা দিলেও গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

• কুড়িগ্রামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকার, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জাকির হোসেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল খালেকসহ ১৯ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১৩ জন। ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ত্রুটি থাকার অভিযোগে এবং বাকদের অন্যান্য ত্রুটি থাকায় জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন মনোনয়নপত্রগুলো বাতিল করেন।

•বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসনে মহাজোট, ঐক্যফ্রন্ট ও বিভিন্ন দলসহ সর্বমোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। বাগেরহাট-১ আসনে ঋণ খেলাপের দায়ে জাতীয় পার্টির আহমেদ জোবায়েরের এবং বাগেরহাট-২ আসনে একই দলের প্রার্থী শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম খানের (এনপিপি) মনোনয়নপত্রে ত্রুটির জন্য তা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।

• নাটোরে চারটি আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমীন ছবির মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে।

এ ছাড়া নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির আলাউদ্দিন মৃধা, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন খানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে টেকেনি জাসদ ও মুসলীম লীগের প্রার্থীর মনোনয়নপত্রও।
নাটোর-১ আসনে সাম্যবাদী দলের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

• বাছাইকালে মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হকের অনলাইন আবেদন যথাযথভাবে না হওয়া ও চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এছাড়া এ আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী আতাউর রহমানের মনোনয়নপত্র যথাযথ ভাবে পূরণ না করায় তা বাতিল করা হয়।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মঈনুল ইসলাম খানের মনোনয়নে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরে মিল না থাকা এবং একই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান চেয়ারম্যান পদ থেকে তার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে ঋণখেলাপির কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম আব্দুল মান্নানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও মাসুম মিয়া শতকরা এক ভাগ ভোট জমা না দেয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।