ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:১২

কনের প্রস্তুতির টুকিটাকি

9171_4.....jpg
রূপচর্চা সৌন্দর্যের অংশমাত্র। সৌন্দর্যের পুরোটা নয় কখনোই। যে দুজন মানুষকে ঘিরে বিয়ের এত আয়োজন, তাঁরাও চান সুন্দরভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে। জীবনের এই বিশেষ দিনটি সামনে রেখে তাঁদের মনেও চলে ভাবনার খেলা। ধীরস্থির ও শান্ত অবস্থায় একজন কনেকে উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত ও আত্মবিশ্বাসী দেখায়। তাড়াহুড়া, অস্থিরতা বা মানসিক চাপের মধ্যে কখনোই তেমনটা দেখায় না। তা সাজের মাত্রা যত বেশিই হোক, যতটা অভিজ্ঞ হাতেই আপনার সাজটি সম্পন্ন হোক না কেন। একটু লম্বা সময় নিয়ে ধীরেসুস্থে প্রস্তুতি নেওয়ার বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা এমনটাই বলেন।

পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান বলেন, ‘বিয়ের আগে নিজের যত্ন নেওয়াটা শুধুই রূপচর্চা নয়। কনে বিয়ের আগে থেকেই সুস্থ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত থাকলে নতুন মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে নতুন একটা জীবন শুরু করার সময়টাতে বাড়তি চাপ অনুভব করেন না। নতুন জীবনের শুরুটাকে তিনি সাবলীলভাবে সামলে নিতে পারেন, আত্মবিশ্বাসী থাকতে পারেন।’

হারমনি স্পা-র আয়ুর্বেদিক রূপবিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, হাসিখুশি, নির্ভার কনে আজকাল একটু কমই দেখা যায়। বিয়ের আয়োজনের প্রায় প্রতিটি দিকেই কনেকে খেয়াল রাখতে হয়। নিজের কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততাও থাকে। প্রায়ই দেখা যায়, ছোটাছুটি করে হাঁপাতে হাঁপাতে কনে পৌঁছেছেন বিয়ের জন্য সাজতে। এই চাপের মধ্যে সাজলেও কনেকে উজ্জ্বল দেখায় না। এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিয়ের আয়োজনের সঠিক পরিকল্পনা আর সেই সঙ্গে কাজের দায়িত্ব সবার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া প্রয়োজন বলে জানালেন তিনি।

জীবনযাত্রা ঠিকঠাক:
বিয়ের কনে অন্তত তিনটি মাস সময় নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করতে পারলে ভালো। এই সময়টাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত পানি খেতে হবে। প্রতিদিন সকালে অ্যালোভেরার রস খেতে পারেন। যোগব্যায়ামসহ অন্যান্য ব্যায়ামের অভ্যাস করতে পারেন। সুযোগ পেলে ব্যায়ামাগারে যান, অন্য ব্যায়ামের সময় না পেলেও অন্তত হাঁটতে হবে প্রতিদিন। বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। সময়মতো খেতে হবে, সময়মতো ঘুমাতে হবে। রাত জাগার অভ্যাস থাকলে তা বদলে ফেলুন। রোদে কম যাওয়াই ভালো। রোদ ও ধুলার মধ্যে চুল খুলে যাবেন না। চেষ্টা করুন কাজের চাপ একটু কমিয়ে নিতে। কর্মক্ষেত্রে বা পড়ালেখার চাপ থাকলে কনেকে ক্লান্ত দেখায়। নিজের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখুন। কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে পারলারে সেবা নিয়ে আসতে পারেন।

উজ্জ্বল ত্বক: 
শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধের সর, মসুর ডাল ও মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। কাঠবাদাম, হলুদ, দুধের সর ও মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করুন। শুধু অ্যালোভেরার রসও ব্যবহার করা যায়। চাইলে দুধ, মধু ও জাফরানের প্যাক লাগাতে পারেন। দুধের সর, মুলতানি মাটি ও ময়দা বা বেসন মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য টকদই ও বেসনের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে শুধু কমলার রস নিয়ে তুলা দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে ব্রণ থাকলে কমলার রস মুখে লাগাবেন না। শসা ব্লেন্ড করেও ব্যবহার করা যায়। গাজর, হলুদ আর টকদইয়ের মিশ্রণও প্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব থাকলে এক-দুই ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য হলুদ, দুধের সর, মধু ও মসুর ডালের বেসন দিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। এর সঙ্গে চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিলে স্ক্রাবিং করতে পারবেন।

শুষ্ক ত্বক স্ক্রাবিংয়ের জন্য কাঠবাদাম, হলুদ, দুধের সর ও মধুর মিশ্রণে চালের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বক স্ক্রাবিংয়ের জন্য গাজর, হলুদ ও টকদইয়ের সঙ্গে চালের গুঁড়া মেশানো যায়। এসব স্ক্রাবার হাত-পায়ের জন্যও ভালো।

আরও কিছু
* প্যাক লাগানোর ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর শুষ্ক ত্বকে টোনার ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ব্যবহার করুন অ্যাস্ট্রিনজেন্ট।
* প্রতি ১৫ দিনে একবার স্ক্রাবিং করুন। বিয়ের ঠিক আগে একবার বডি স্ক্রাব করিয়ে নিতে পারেন।
* যেদিন হলুদমিশ্রিত প্যাক ব্যবহার করবেন, সেদিন আর রোদে যাবেন না। আর আপনার ত্বকে হলুদ মানিয়ে না গেলে হলুদ বাদ দিয়ে দিতে হবে।
* বিয়ের আগের এই সময়টাতে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই-তিনবার ফেসিয়াল করান। ত্বকের ধরন বুঝে ফেসিয়াল বেছে নিন। অন্য কোনো সমস্যা না থাকলে ডিপ ক্লিনিং বা ব্রাইটেনিং ফেসিয়াল করাতে পারেন, কোলাজেন ফেসিয়ালও বেছে নিতে পারেন। ত্বক সুস্থ থাকলে মেকআপ ভালোভাবে চেহারায় মানিয়ে যায়।
* ত্বকে কোনো সমস্যা থাকলে সেই অনুযায়ী পারলারভিত্তিক সেবা বেছে নিন। বিয়ে–পরবর্তী প্যাকেজও থাকে অনেক পারলারে।
* যাঁরা ওয়্যাক্সিং করাতে চান, তাঁরা বিয়ের দুই দিন আগে করিয়ে নিন। ভ্রু প্লাক করতে চাইলে বিয়ের দুই-তিন দিন আগেই করিয়ে নেওয়া ভালো।
* অতিরিক্ত ভারী মেকআপ না করাই ভালো।

হাত ও পায়ের জন্য:
রোদে যাওয়ার আগে হাত ও পায়ে সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। গরম পানিতে শ্যাম্পু, শাওয়ার জেল বা ডেটল মিশিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করতে পারেন। চালের গুঁড়া, দুধ, মধু, গাজর, জলপাই তেল, কাঁচা হলুদ ও শসার রস মিশিয়ে নিয়ে হাত ও পায়ে ব্যবহার করতে পারেন। বিয়ের এক-দেড় মাস আগে নখ বড় রাখতে শুরু করতে পারেন। তবে খুব বেশি বড় নখ না রাখাই ভালো। মাসে দুবার ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করানো ভালো। বিয়ের দুই দিন আগে পেডিকিউর ও ম্যানিকিউর করিয়ে নিন।

চুল হোক ঝলমলে : 
শ্যাম্পুর আগে মাথার ত্বক ও চুলে উষ্ণ তেল মালিশ করে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানালেন কানিজ আলমাস খান। তেলে মেথি দিয়ে কিছুক্ষণ রোদে রেখে এরপর তা মালিশ করার পরামর্শ দিলেন তিনি। চুলের আগা ফেটে গেলে একটু কাটিয়ে নিতে পারেন। শুষ্ক চুলের জন্য ডিমের কুসুম, টকদই ও লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। তৈলাক্ত চুলের জন্য ডিমের সাদা অংশ ও লেবুর রস দিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। প্যাক লাগানোর পর ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। ৭-১০ দিন পর পর চুলের ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন। রিবন্ডিং করাতে চাইলে বিয়ের ১০ দিন আগেই করিয়ে ফেলুন।