ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

সাকিল আহমেদ,সিলেট প্রতিনিধি

৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:১২

সিলেটে মহাজোটের ভেতরেও আসন ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে টানাপড়োন চলছে

9229__20181206_152841.jpg
সিলেটে আওয়ামীলীগের কাছে জাতীয়পার্টি ৩টি ও বিকল্পধারা চায় একটি আসন। একারণে এই চারটি আসনে শরিকরা তাদের প্রার্থী রেখেছে।তবে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে একটি ছাড়া বাকি ৫টিই ছাড়তে নারাজ আওয়ামীলীগ।নেতাদের দাবি- সিলেটের যে ৫টি আসনে তাদের প্রার্থীরা রয়েছেন তারা হচ্ছেন- শক্তিশালী প্রার্থী। তাদের ছাড়া বিজয় ঘরে তোলা সম্ভব নয়।ফলে মহাজোটের ভেতরেও আসন ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে টানা পড়েন চলছে।আর নির্বাচনী মাঠে একাধিক প্রার্থী থাকায় কে মহাজোট প্রার্থী এনিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে রয়েছেন ভোটাররা।

তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই সিলেট-২আসনটি ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামীলীগ।এ আসনে ২০১৪ সালের নির্বাচনেও মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন বর্তমান এমপি ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া।এবারো তাকে এ আসনে ছাড় দেয়ার কারণে আওয়ামীলীগের কোনো প্রার্থী মনোনয়ন পাননি।এহিয়ার বিরোধীহয়েআলোচনায় থাকা শফিকুর রহমান কিংবা আনোয়ারুজ্জামান মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি।এ আসনে এখন মহাজোটের একক প্রার্থী এহিয়া।

এদিকে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১আসনে ড. একেআবদুল মোমেনকে একক প্রার্থী দিয়ে নির্ভার আওয়ামীলীগ।এই আসনেরজন্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ফোরামের কাছে সিলেটের একাধিক নেতা মনোনয়ন চাইলেও কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। সিলেট-৩ আসনেও সংকটদে খাদিয়েছে মহাজোটে।আওয়ামীলীগ থেকে এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে বর্তমান এমপি মাহমুদউস সামাদ চৌধুরী
কায়েসকে।দলের ঘোষিত প্রথম তালিকায়ই আসে কায়েসের নাম।

কিন্তু এই আসনে জাতীয় পার্টির টিকিট নিয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন জেলার সদস্য সচিব উসমান আলী। ফলে এ আসনে কয়েসই মহাজোটের একক প্রার্থী সেটি এখনই বলা যাবে না। তবে- উসমান আলী এখানে শক্তিশালী প্রার্থী নয়।তিনি শহরতলির লাগোয়া একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তে উসমান আলী ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সিলেট-৪ আসনটি ও চায় জাতীয় পার্টি।এ আসনে গেল বার মহাজোটপ্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন ইমরান আহমদ। ওই সময় এ আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজ রহমান।কিন্তু পরে দলীয় সিদ্ধান্তে তাজ রহমান সরে যান।এ বারো মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তাজ রহমান।

ইমরান আহমদ নৌকার পক্ষে ভোট চাইলে ও তাজ রহমান লাঙলের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন।সিলেট-৫ আসন গেলবার জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিনকে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামীলীগ।এ কারণে আওয়ামীলীগ দল থেকে কাউকে প্রার্থী করা হয়নি।কিন্তু এবার এই আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন সাবেক এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার।একইভাবে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন সেলিম উদ্দিনও।পরে সেলিমের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হলে তিনি প্রার্থী হতে আপিল করেছেন।সেলিম উদ্দিন এ আসন থেকে মহা জোটের সমর্থন না পেলে শেষ মুহূর্তে জাতীয় পার্টি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

সিলেট-৬ আসনে ও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন সেলিম উদ্দিন।এ আসনেও তার মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।সিলেট-৬ আসনটির বর্তমান এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদ।তাকেও এবার আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।সেলিমউদ্দিন এবার এ আসনটি চেয়েছেন আওয়ামীলীগের কাছে।পাশাপাশি এ আসনে বিকল্পধারা থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন সমশের মবিন চৌধুরী।তিনিও এ আসন থেকে মহাজোটের সমর্থন চাচ্ছেন। তিনি নিজেও জানিয়েছেন- সিলেটের এই আসন থেকে তিনি মহাজোট থেকে সমর্থন পাবেন বলে আশাবাদী।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজ রহমান জানিয়েছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে সিলেটে দুটি আসন পেয়েছিল জাতীয়পার্টি। এবার প্রথমে চারটি দাবি করা হলেও শেষ মুহূর্তে তিনটিতে এসে আলোচনা চলছে। আসন গুলো হচ্ছে- সিলেট-২, সিলেট-৪ ও সিলেট-৫।এ আসন গুলোতে জাতীয় পার্টির ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে তিনি জানান।