ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:১২

একপক্ষ সরকারি প্রটোকলে অন্যপক্ষের উপর হামলা মামলা গণগ্রেফতার

9490_নির্বাচন.jpg
নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে অজানা শংকা ততই তাড়া করে ফিরছে।এক চরম বৈরি অবস্থা সত্বেওে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের তিন দল মিলে ২৩দলকে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।আগে অনেকেই বলেছিলেন দলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনে যাওয়া মানে হলো অনেকটাই শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দেয়ার মত। অর্থাৎ ক্ষমতাসীনদেরকে আরো ৫ বছরের জন্য থাকার বৈধতা দিয়ে দেয়া। এমন আশংকা সত্বেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিরোধী দল ও জোটের সংলাপে তিনি নিরপেক্ষ থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন।কিন্তু গত ১০ তারিখ থেকে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু হওয়ার পর থেকে যেভাবে বিএনপি,জামায়াত ও ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের উপর হামলা,বিশেষ অভিযানের নামে গণগ্রেফতার চলছে তাতে সেই শঙ্কারই বহি:প্রকাশ ঘটছে।পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ সরকার ও সরকারি দলের নির্দেশমত কাজ করছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে।গত শুক্রবার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রথম আলোর খবরে বলা হয়,সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনে আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জাসদের আ স ম আবদুর রব, রেজা কিবরিয়া, বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন আবদুস সালাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্ল¬াহ চৌধুরী প্রমুখ।

গণফোরামের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা লতিফুল বারী হামিম প্রথম আলোকে বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রবসহ গণফোরামের নেতারা ছিলেন। তাঁরা শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় এ হামলা হয়। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসলামুল হকের সমর্থকেরা তাঁদের গাড়িবহরে এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কামাল হোসেনের গাড়ি আগে বের হয়। তাঁর পেছনের গাড়িতেই ছিলেন আ স ম আবদুর রব। হামলার ঘটনায় আ স ম আবদুর রবের গাড়ির চালক আহত হয়েছেন।লতিফুল বারী অভিযোগ করেন, গণফোরামের নেতা জগলুল হায়দারের গাড়িসহ আরও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটকে ড. কামাল হোসের গাড়ি রাখা ছিল। তিনি যখন গাড়িতে বসতে যাচ্ছেন, তখন অতর্কিতে ওই গাড়িতে গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। আশপাশে যাঁরা তাঁর সঙ্গে হেঁটে আসছিলেন, তাঁদের মারধর করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজন টিভি সাংবাদিক আহত হন।

ইতোপূর্বে বিবিসির খবরে বলা হয়েছিল,বাংলাদেশে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী সহিংসতা শুরু হয়েছে। নোয়াখালিতে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

বিএনপি অভিযোগ করছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের দলের প্রার্থী এবং সমর্থকদের ওপর সরকারী দলের সমর্থকরা হামলা চালাচ্ছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ীবহরও এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি।বিএনপি দাবি করেছিল, সেখানে তাদের দলীয় প্রার্থী মওদুদ আহমেদের নির্বাচনী মিছিলে হামলা করা হয়েছে।তবে পুলিশ এই ঘটনাকে 'হামলা'র পরিবর্তে বিএনপি ও মহাজোট প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বলে বর্ণনা করছে।তবে অপর আরেক সংঘর্ষে নোয়াখালি সদরে ওই নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ীবহরে হামলার অভিযোগ করেছে বিএনপি। তিনি সেখানে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য যখন বেগুনবাড়ী এলাকায় যান, তখন এই হামলা চালানো হয়।

টেলিফোনে মির্জা ফখরুল বিবিসি নিউজ বাংলাকে জানান, "যাওয়ার পথে শুনলাম যে রাস্তার পাশেই একটা ইউনিয়ন আছে সেখানে একটা সেন্টারে আমাদের দলের লোকজনদের উপরে আওয়ামী লীগ চড়াও হয়েছে রামদা লাঠিসোটা নিয়ে।আমি ভাবলাম আমার সেখানে যাওয়া উচিৎ। অন্তত আমার ছেলে-পেলেদের আমার নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ। কারণ সংঘর্ষ হলে তো খারাপ হয়। এরপর আমি এসপি ও ডেপুটি কমিশনারকে জানালাম। তারপর আমি সেখানে গেছি। যাওয়ার পরে আমার গাড়ী পার হওয়ার পরে পেছন থেকে তারা যে কয়েকটা গাড়ী ছিল, সেগুলো রড লাঠি দিয়ে তারা আক্রমণ করে ভেঙেছে।"

বিএনপি অভিযোগ করছে, এরকম ঘটনা দেশজুড়েই ঘটছে। তাদের কর্মীদের গ্রেফতার করে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,"ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচারণা চালাতে আসবো, ঠিক এই সময়ে কালকে রাতে আমার এখানকার দুজন অত্যন্ত সিনিয়র কর্মীকে আক্রমণ করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কোন কারণ ছাড়া।"তিনি বলছেন, "নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে, পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে। সরকার প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যাবহার করছে যাতে করে বিএনপি নির্বাচনের মাঠে না থাকে।"বিবিসি

এর আগে ডিসি সাহেবরা অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী বাছাইয়ের সময় প্রমান দিয়েছেন যে তারা কতটা ক্ষমতাসীনদের প্রতি অনুগত হয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।নির্বাচন পর্যন্তু তারা আরো কি কি করবেন তা নিয়ে আশঙ্কার শেষ নেই।আর পুলিশ বিএনপি-জামায়াত কমীদের সমানে গ্রেফতার করে চলছে বিশেষ অভিযানের নামে। পুলিশ বলছে তারা মামলার আসামীদের গ্রেফতার করছে।পুলিশের এ বক্তব্য এক অর্থে সত্য বটে। তবে এই মামলা বর্তমান সরকারের আমলের মামলা যা পুলিশ আগেই দায়ের করে রেখেছিল। আগে তারা এমন ভাবে মামলাগুলো করেছে যার মধ্যে কতিপয় ব্যক্তির নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত এক শ বা অন্য কোন সংখ্যা বসিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এখন নাম না পেলে ঐ অজ্ঞাত কোটায় আসামী দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

গণগ্রেফতারের উদ্দেশ্য ঐক্যফ্রন্ট কর্মীদের মাঝে আতংক তৈরী করা। এছাড়াও তিনটি কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞমহল। তারা বলছেন,গ্রেফতার পুলিশের বরাবরেরই একটি বাণিজ্য। এই দফায়ও তার ব্যতিক্রম হচ্ছেনা। বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আটক করে মোটা অংকের টাকা দাবী করা হচ্ছে। বেশি বড় নেতা নাহলে টাকা নিয়ে নেগোসিয়েশন হলে থানা থেকেই ছেড়ে দেয়া হয়। আবার কোটে চালান দেয়ার পরও রিমান্ডে না নেয়ার কথা বলে অথবা রিমান্ডে নির্যাতন করা হবেনা- এমন কথা বলেও পুলিশ বরাবরের মত টাকা আদায় করছে আটককৃত কর্মীর অবিভাবক বা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে। পরবর্তিতে মামলায় দুর্বল ধারা দেয়া হবে, যাতে সে কোর্ট থেকে সহজে জামিন পেতে পারে। এমন কথা বলেও টাকা আদায় করে পুলিশ। বর্তমান পরিস্থিতেও তা চলছে।দ্বিতীয় কারণ হিসেবে বিজ্ঞজনরা বলছেন,ঐক্যজোটের সম্ভাব্য এজেন্ট যাদেরকে ভোটকেন্দ্রে নিয়োগ দেয়া হতে পারে তাদেরকে বেছে বেছে আটক করা হচ্ছে যাতে তারা এজেন্ট দিতে না পারে।আর তৃতীয় কারণ হলো আতঙ্ক সৃষ্টি করা, যাতে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না যায় এবং ক্ষমতাসীনরা বিনা বাধায় তাদের মার্কায় সিল মেরে বাক্সে ঢোকাতে পারে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, সারাদেশে বিশেষ অভিযানের নামে যাদেরকে আটক করা হচ্ছে তারা সবই বিএনপি-জামায়াত বা ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মী। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের কাউকে আটক করা হচ্ছেনা।আবার ভুলে আটক হলেও নেতার নির্দেশে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে সসম্মানে।ঢাকায় মির্জা আব্বাস,আফরোজা আব্বাসসহ অনেকের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং আটক করার অভিুযোগ এসেছে। একই চিত্র সারাদেশের।এভাবে ভয় এবং আতঙ্ক মাথায় নিইে চলছে একপক্ষের নির্বাচনী প্রচারনা। আর অন্যপক্ষে মন্ত্রীরা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়ি এবং সরকারি প্রটোকল ব্যবহার করে অবাধে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে।পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন চলছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কমিশন কোন কিছুই নিয়ন্ত্রনে নিতে পেরেছে-এমন প্রমান পাওয়া যাচ্ছেনা।