ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

জুনাইদ কবির ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১২

বিলুপ্তির পথে ঠাকুরগাঁওয়ের খেজুরবাগান

9614_Untitled.jpg
দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও। কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত ঠাকুরগাঁও। ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস নিয়ে যথার্থই আলোচিত। শীত মৌসুম এলেই উপজেলার সর্বত্র শীত উদযাপনের নতুন আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আহরণ ও গুড় উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে এ অঞ্চলের কৃষাণ- কৃষাণীরা। তাদের মুখে ফুটে উঠে রসালো হাসি। উপজেলায় খেজুরের রসের আর তেমন কদর নেই বললেই চলে। এ অঞ্চলে খেজুর গাছ যাও ছিল সেটাও ইট ভাটার কাঁচামাল হিসাবে পুড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ।

ঠাকুরগাঁওয়ে খেজুর গাছ আজ বিলুপ্তির পথে। ফলে এ উপজেলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচ প্রভাব পড়েছে। এক সময় ঠাকুরগাঁওসহ উপজেলাগুলো ছিল খেজুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত। শীত মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে গাছিদের মাঝে খেজুর গাছ কাটার ধুম পড়ে যেতো। খেজুর গুড়ের গন্ধে গ্রামীণ জনপদ ছিল ভরপুর। বাড়ি বাড়ি পিঠা, পায়েস খাওয়ার ধুম পড়তো। কিন্তু এখন আর আগের মতো খেজুর গাছ নেই। শোনা যায় না গাছিদের দা ধার দেয়ার শব্দ। বাজারে খেজুর গুড় উঠলেও সাধারণ মানুষের তা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। কালের বিবর্তনে হাতেগোনা যে সব গাছ আছে সেগুলোতে ইতিমধ্যে চাঁচাছোলা ও নলি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। শীত ক্রমেই জেঁকে আসছে। তাই গাছিরা রস সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন। এক সময় বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে, ক্ষেতের আইলে, পুকুর পাড়ে ছিল খেজুর গাছের সারি। কিন্তু ব্যাপকহারে খেজুর গাছ কর্তন এবং পরিকল্পিত উপায়ে
খেজুর গাছ না লাগানোর ফলে এখন প্রায় খেজুর গাছ শূন্য হতে চলেছে। এক সময় খেজুর গুড় দিয়ে সারা বছরের চিনির চাহিদা পূরণ হতো।

বর্তমানে,ঠাকুরগাঁওয়ের সবচেয়ে বর খেজুর বাগান প্রায় ১৩ একর জমির উপর অবস্থিত নারগুন পোকাতি ইক্ষু খামারের আওতায় তাও সঠিক পরিচর্জার অভাবে প্রায় ধংসের পথে।

এলাকাবাসিরা জানায়, কয়েক বছর আগেও এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুর তৈরি করত যা এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বাহিরে রপ্তানি করা হত, যা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। নারগুন ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম জানায, নারগুন ইউনিয়নে প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। কিন্তু এখন আর আগের মতো খেজুর গাছ নেই।

বয়স্কজনদের অভিমত, এ উপজেলার মাটি খেজুর চাষের উপযোগী। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এখানে খেজুর চাষে সহায়তা করা হলে এ উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। আব্দুল জলিল জানায়, একটা সময় অনেক দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতো এ বাগান দেখেতে , এখন বাগানে নানা ধরনের আবাদ হওয়ার
কারনে বাগানের অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে ,বাগানে ঢুকা যাচ্ছেনা তাই দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আসা অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে।

দিনাজপুর থেকে আাসা আব্দুল কাদের (২৮) জানায়, সে তার বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে এ বাগান দেখতে আসে, কিন্তু এসে দেখে বাগানের ভিন্ন দৃশ্য, অেনেক গাছের পাতা কেটে ফেলার কারনে গাছগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, এমনটা চলতে থাকলে দেখা যাবে এই বাগান একটা সময় আর নেই।

লোকনাথ রায়, নারগুন পোকাতি ফার্ম ইনচার্জ জানায়, খেজুর বাগানের আয়তন ১৩ একর। এবার বাগান গাছিদের খোজা হয় কিন্তু গাছি না পওয়ার কারনে খামারের ভিতরে থাকা শ্রমিকরা শাক-সবজি চাষাবাদ করছে।

গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছু কিছু গাছের পাতা কাটা হয়েছে, গাছের কোন ক্ষতি করা হয়নি।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এ অঞ্চলের মাটিতে অ্যাসিডিটি ও স্যালাইনিটির পরিমাণ কম। মাঠির এ অবস্থায় খেজুর গাছ জন্মানোর উপযোগী। কোন পরিচর্যা ছাড়াই এ মাটিতে খেজুর গাছ বেড়ে উঠতে পারে। এছাড়াও শীত মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়। যার ফলে আবহাওয়ার সাথে খেজুরের রসে মিষ্টির পরিমাণ বেশী হয়ে
থাকে। আবার শীতের কারণে এ এলাকার খেজুরের রস সুস্বাদু হয়। তারপরও খেজুর গাছ রোপণও করতে হয় না তেমন। প্রাকৃতিকভাবে এখানে খেজুর গাছ জন্মায়।