ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

শহীদুল ইসলাম

২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:১২

এমন নির্বাচন দেখিনি

9647_নির্বাচন কমিশন.jpg
আমার বাসা থেকে অফিসে আসার পথে ঢাকা মহানগীর ৫ টি নির্বাচনী এলাকা পার হতে হয়।আজ সকালে আসার পথে গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম যে,শুধুই নৌকা প্রতিকের পোষ্টার আছে। কোথাও ধানের শীষের একটি পোষ্টারও চোখে পড়েনি।অন্যান্য এলাকা থেকেও খবর নিয়ে জানা গেছে গোটা রাজধানীতেই একই চিত্র।যেখানে নির্বাচনের আর মাত্র ৯দিন বাকি সেখানে প্রধান প্রতিপক্ষের কোন পোষ্টার বা কোন প্রকার প্রচারনার উপকরণ না থাকার কোন দৃশ্য আমি কখনও দেখিনাই।

বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির আজকের অভিযোগটা একটু উল্লেখ করতে চাই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন,প্রায় দশ জনের মতো ধানের শীষের প্রার্থী এখন কারাগারে রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ নয়, পুলিশই নৌকা মার্কার প্রার্থীদের আস্থাকেন্দ্র।আর আ’লীগ নয়,পুলিশই যেন ধানের শীষের প্রতিপক্ষ।

তিনি বলেন, কারাগারগুলোতে যেন ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা। কারাগারে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে আটক করে এখন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অজানা জায়গায়। সারাদেশে হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ নেতাকর্মীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বানোয়াট মামলার আসামী করা হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, পুলিশের মদদে সারা দেশে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। জীবনের নিরাপত্তা চেয়েও পাচ্ছেন না ধানের শীষের প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকরা।দেশের কোটি কোটি মানুষ ও বিএনপি নেতাকর্মীরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারের সময় শুধু আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই নয়, যৌথভাবে পুলিশও গুলি চালাচ্ছে, পুলিশের গুলিতে আহত হচ্ছেন বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করা হচ্ছে প্রার্থীদের।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সিইসি নির্বচন নিয়ে দেশব্যাপী সহিংসতা ও ব্যাপক নৈরাজ্য ঢাকতে এখন বকধার্মিক সেজেছেন। তিনি প্রভুদের সন্তুষ্ট করতে নির্বাচন কমিশনারদের অস্তিত্বেও আঘাত করছেন।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে ধানের শীষের প্রচারণায় সরকারি দলের ক্যাডার ও পুলিশ বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে।

যেসব আসনে হামলা হয়েছে বলে রিজভি উল্লেখ করেন সেগুলোর অন্যতম- নরসিংদী-১, কুমিল্লা জেলা, ভোলা-২,বরিশাল-৪, ফরিদপুর-৩, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, পাবনা-১, কুষ্টিয়া-৪, কুষ্টিয়া-১, সাতক্ষীরা-৩, মেহেরপুর-২, নড়াইল-২, সিলেট-৪, মৌলভীবাজার-১, মৌলভীবাজার-২, মৌলভীবাজার-৪, সুনামগঞ্জ-১, পটুয়াখালী-১, পিরোজপুর-২, ভোলা-৩, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-১০, চট্টগ্রাম-১৬, কক্সবাজার-৩, কক্সবাজার-৪, রাঙামাটি, নোয়াখালী-১, নোয়াখালী-২, ফেনী-২, ফেনী-৩, লক্ষ্মীপুর-৩, কুমিল্লা-৬, কুমিল্লা-৯, টাঙ্গাইল-১, ঢাকা-২, ঢাকা-৬, ঢাকা-৮, নারায়ণগঞ্জ-৪, ঢাকা-১৯, মানিকগঞ্জ-২, নরসিংদী-৩, নরসিংদী-৪, রাজশাহী-২, রাজশাহী-৪, বগুড়া-৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, জয়পুরহাট-২, নওগাঁ-২, নওগাঁ-৩, নওগাঁ-৫, সিরাজগঞ্জ-১, সিরাজগঞ্জ-৪, সিরাজগঞ্জ-৬, দিনাজপুর-৬, ময়মনসিংহ-১১, কিশোরগঞ্জ-৬, নেত্রকোণা-৪, রাজবাড়ী-২, মাদারীপুর-১, শরীয়তপুর-২, বগুড়া-১, বগুড়া-৪, ফরিদপুর, বরিশাল-২, মেহেরপুর, নরসিংদী-৪, নোয়াখালী-৪, ফেনী-২, চট্টগ্রাম-৮, হবিগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৩, ময়মনসিংহ-২, মুন্সীগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৩, নোয়াখালী-৫ ।
যেখান থেকে শুরু করেছিলাম এবার সেখানে আসি।বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভির অভিযোগের সাথে বাস্তবতার কতটা মিল তা বোঝার জন্য খুব বেশী তথ্যাভিজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন পড়েনা। একটু চোখ কান খোল রাখলেই হয়।

ধানের শীষের পোষ্টার চোখে পড়বে কিভাবে। পোষ্টার তো চাপতেই দিচ্ছেনা। প্রেস বা চাপাখানাতেও সরকারি গোয়েন্দাদের নজরদারি রয়েছে। ধানের শীষের পোষ্টার চেপে কি কেউ জেলে যাবে? না তার ব্যবসা বন্ধের ঝুকি নেবে? এমনটি বাস্তবে ঘটেছে এবং ঘটছে।আবার অতি গোপনে যদি কেউ পোষ্টার বা লিফলেট ছাপে তা লাগানোর আগেই গায়েব করে দেয়া হচ্ছে।এমনকি পোষ্টার বা লিফলেটের বাহকসহ ধরে নিয়ে যাচ্ছে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট বিতরণকালে এ পর্যন্ত গত ১১ দিনে প্রায় দেড়শ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই এলাকার ধানের শীষের প্রার্থীর একজন সমর্থক জানান,পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে আমরা মাঝে মাঝে বিভিন্ন যায়গায় ঝটিকাার গতিতে লিফলেট বিতরন করছি।কোন পোষ্টার লাগানো সম্ভব হচ্ছেনা পুলিশের আতঙ্কে।তারপরেও এ পর্যন্ত প্রায় দেড়শ নেতা কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকাসহ সারাদেশের কোথায়ও বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা ঘরে থাকতে পারছেনা। যেখানেই পাচ্ছে সেখান থেকেই তাদেরকে গ্রেফতার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একদিকে আতঙ্ক সৃষ্টি অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কেউ যেন এজেন্ট পর্যন্তু হতে না পারে বা না দিতে পারে এমন টার্গেট নিয়েই পুলিশ কাজ করছে। আটক করে মুক্তিপন বা টাকা আদায় করা হচ্ছে। সারাদেশেই চলছে কথিত বিশেষ অভিযানের নামে বিএনপি,জামায়াত এবং ঐক্যফ্রন্ট নেতা-কর্মীদের আটক।‘কারাগারগুলোতে ঠাই নাই’ মর্মে রুহুল কবির রিজভির অভিযোগ সত্য।আবার অনেককে গুম করে ফেলা হচ্ছে। আটকের পর স্বীকারই করা হচ্ছেনা।

এই কারনেই ঢাকাসহ সারাদেশেই বিরোধীপক্ষের কোন প্রচারনা তেমন নেই বললেই চলে। ঢাকায় তো পোষ্টার ,ব্যানার লিফলেট,গণসংযোগ,মিছিল মিটিং কিছুই করতে পারছেনা ধানের শীষের প্রার্থীরা।ঢাকার বাইরে সীমিত পরিসরে কিছু প্রচারনা চালাতে পারলেও পুলিশ এবং আওয়ামী কর্মীদের হামলা মামলা আটক থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেনা। কর্মী সমর্থক তো বটেই প্রার্থীরাও এই হামলা এবং আটক থেকে রেহাই পাচ্ছেনা।

বিরোধীপক্ষের উপর এসব হামলা এবং নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছেনা। অথচ দেশের সংবিধান এবং আইন অনুসারে তফসিল ঘোষনার পর সব প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের অধিণে চলে আসে। বাস্তবে তার কোন প্রয়োগ দেখা যাচ্ছেনা।বরং তারা যেন সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই ব্যস্ত।দেশ এখন র‌্যাব,পুলিশ আর ডিসি সাহেবদের নিয়ন্ত্রণে যাদেরকে আওয়ামী মহাজোট সরকার আগেই সাজিয়ে রেখেছে।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনই স্বচক্ষে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। এর কোন কোনটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। কিন্তু কখনো দেখিনাই যে বিরোধী পক্ষকে পোষ্টারটি পর্যন্ত টাঙ্গাতে দেয়না। কোন প্রচারনা চারাতে দেয়া হয়না।মাঠে নামতেই দেয়া হয়না। প্রার্থীদের পর্যন্ত আটক ও গুলি করা হয়। তাহলে জনগণ কি আদৌ তাদের ভোটাদিকার প্রয়োগ করতে পারবে?

লেখক- সাংবাদিক