ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

এনএনবিডি ডেস্ক

২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১২

নমুনা ভোট

ইভিএমে মিলছে না বেশিরভাগ আঙুলের ছাপ

9811_6..+++++.jpg
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোট নিতে ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। এর মাধ্যমে ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেবেন ২১ লাখ ২৪ হাজার ৪১১ জন ভোটার। এই ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন ছিল। ইভিএমে আঙুলের ছাপ শতভাগ কাজ করে না— এমন অভিযোগও ছিল। ভোটকে সামনে রেখে ইভিএম দিয়ে নমুনা ভোট নেওয়ার সময় ঠিক এমন আশঙ্কারই সত্যতা মিলেছে। আঙুলের ছাপের বদলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ব্যবহার করে ভোট দিতে হয়েছে তাদের।

ভোটাররা বলছেন, ইভিএমে দেওয়া ভোট শেষ পর্যন্ত ঠিক থাকবে কি না, সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া ইভিএমে ভোট চুরি যে হবে না, তার নিশ্চয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তাদের।

যেসব আসনে ইভিএমে ভোট হবে সেসব আসনগুলোতে এরই মধ্যে ইভিএমে নমুনা ভোট অনুষ্ঠান চলছে। ভোটারদের সঙ্গে ইভিএমের পরিচয় ঘটাতেই নির্বাচন কমিশন এমন নমুনা ভোটের আয়োজন করেছে। এই নমুনা ভোটের মাধ্যমে ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হবে, ভোটাররা তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নিচ্ছেন।

ঢাকা-৬ আসনের যুগিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রসহ একাধিক কেন্দ্রে চলছে ইভিএমের মাধ্যমে নমুনা ভোটগ্রহণ।

মঙ্গলবার যুগিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের সঙ্গে ইভিএমের পরিচয় ঘটাতে ওই কেন্দ্রে ইভিএমে নমুনা ভোট অনুষ্ঠান চলছে। ভোটার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ৫০ জন ভোটার নমুনা ভোট দিতে আসেন। নমুনা ভোট সম্পর্কে সঠিক প্রচার হয়নি বলেই ভোটার উপস্থিতি কম বলে জানা গেছে।

ওই কেন্দ্রে অবস্থান করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ভোটারের আঙুলের ছাপ ইভিএমে কাজ করছে না। যাদের আঙুলের ছাপ করছে না, তারা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (এনআইডি) দিয়ে ভোট দিচ্ছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত মাত্র ২০ জন ভোটার আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সফলভাবে ভোট দিতে পেরেছেন।

মৈশুন্ডি অঞ্চলের ইউসুফ রিপন নামের একজন ভোটার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার আঙুলের ছাপ দিলে ইভিএমে কাজ হয়নি। আমি আমার এনআইডি নম্বর বললে সেটা ইভিএমে কাজ করেছে এবং আমার তথ্য ভেসে উঠেছে। তারপর আমি নমুনা ভোট দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আঙুলের ছাপ না মিললে ভোট দেওয়া যাবে না। কিন্তু নমুনা ভোট দিতে গিয়ে দেখলাম আঙুলের ছাপ না মিললেও সমস্যা নেই। এনআইডি নম্বর বললেই ভোট দেওয়া যাচ্ছে। আঙুলের ছাপ ছাড়া ইভিএমে শুধু নম্বর দিয়েই যদি ভোট হয়, তবে একটা শঙ্কা থেকে যায়। কারও অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে সহজেই অন্য একজনের এনআইডি নম্বর দিয়ে ভোট দিতে পারবে। তাই একমাত্র আঙুলের ছাপই যদি ইভিএমে ভোট দেওয়ার জন্য মূল শর্ত হতো বা আঙুলের ছাপের সঙ্গে এনআইডি নম্বরও যদি একইসঙ্গে মূল শর্ত হতো, তবে বেশি ভালো হতো। এতে ভোট চুরি নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যেত।’

এবার যে ছয়টি আসনে ইভিএমে ভোট হবে, সেগুলো হলো— ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ ও সাতক্ষীরা-২। এর মধ্যে তিন আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও বাকি তিন আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রয়েছেন।

ইসি সূত্র জানায়, প্রতিটি ভোট কক্ষে একটি করে ইভিএম থাকবে। কোনো ধরনের ত্রুটি দেখা গেলে ‘স্ট্যান্ডবাই’ তিনটি করে ইভিএম থাকবে। সাধারণত প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে পাঁচটি ভোটকক্ষ থাকে, আর প্রতিটি ভোট কক্ষে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ জন ভোটারের জন্য একটি ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সে হিসাবে ছয়টি আসনে সাড়ে চার হাজার ইভিএম লাগবে। তবে ইভিএমে কোনো ক্রটি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় বিকল্প হিসাবে চাহিদার দ্বিগুণ পরিমাণ ইভিএম প্রস্তুত রাখা হবে। সারাবাংলা