ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮

২১ নভেম্বর ২০১৮, ১১:১১

নির্বাচনমুখী নির্দেশনায় সচিবদের জন্য যা রয়েছে

103_6.jpg
ফাইল ছবি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্নের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা করবেন সচিবরা। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সচিবসভার বৈঠকে নির্বাচনের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পায়। সভায় নির্বাচনকালীন সময়ে যাতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে সে জন্য সচিবদের নির্দেশনা দেয়া হয়। এ সময় সচিবরাও নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সচিবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলোচনায় তারা বলেন, সরকার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রশাসন কখনো নিষ্ক্রিয় থাকে না। কেউ না কেউ সরকার পরিচালনা করবে। তাই এই সময়ে যেন প্রশাসনে কোনো ধরনের শিথিলতা বা স্থবিরতা দেখা না দেয় সে জন্য সচিবদের সজাগ থাকতে হবে।

এ ছাড়া নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে জন্য আগে থেকেই প্রশাসনকে অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হয় ওই বৈঠকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশ অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ করায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ ধীর গতিতে চলছে। এমনকি কোথাও কোথাও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচিবরা। বৈঠকে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব না দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সভা অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা অংশ নেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের বড় কোনো সভা বা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি লাগে। নির্বাচনে প্রভাব পড়ে এমন কোনো কাজ এ সময়ে করা যায় না।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে প্রভাব পড়ে এমন যেকোনো কার্যক্রম নির্বাচনকালীন করা যায় না। এ বিষয়ে সংবিধানসহ বিভিন্ন ধরনের বিধিবিধানে বলা রয়েছে। দেশের জরুরি প্রয়োজনে কিছু করতে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হয়।

এর আগে গত ৮ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৪৫ জন সচিবপর্যায়ের কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন জেলার পরামর্শক হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। পরে এই ৪৫ জন উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয় বিএনপি। চিঠিতে বলা হয়, উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সবাই রিটার্নিং অফিসারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের অধিকাংশ নিজ জেলায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে; যা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (জেলা প্রশাসক) নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনকে নিশ্চিতভাবে বিঘিœত ও বিব্রত করবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের দায়িত্ব প্রদান নির্বাচনকে চরমভাবে প্রভাবিত করবে এবং রিটার্নিং অফিসারদের ওপর অযাচিত প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করবে।

চিঠিতে ৪৫ জন কর্মকর্তাকে ৪৫টি জেলার উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে মাদারীপুর, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ইসতিয়াক আহমদকে মানিকগঞ্জ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিককে নরসিংদীর উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়েছে। এ ছাড়া সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামকে টাঙ্গাইল, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগমকে মুন্সীগঞ্জ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগ সচিব সম্পদ বড়–য়াকে কিশোরগঞ্জ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদারকে শরীয়তপুর, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুনকে গোপালগঞ্জের উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো: আবুল কালাম আজাদকে জামালপুর, পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরীকে ময়মনসিংহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে নেত্রকোনা ও নৌপরিবহন সচিব মো: আবদুস সামাদকে শেরপুরের উপদেষ্টা মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খানকে যশোর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. নমিতা হালদারকে বাগেরহাট, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষকে ঝিনাইদহ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে মো: আব্দুল হান্নানকে খুলনা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মো: আকরাম-আল-হোসেনকে মাগুরার উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়।

এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: জিল্লার রহমানকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ারকে সিরাজগঞ্জ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীকে নওগাঁ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামালকে পাবনা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: সাইদুর রহমানকে নাটোর, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব খন্দকার মো: ইফতেখার হায়দারকে রংপুর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো: মাকসুদুল হাসান খানকে গাইবান্ধা, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মো: মাহফুজুর রহমানকে কুড়িগ্রাম, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিককে পঞ্চগড়, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: নুরুল ইসলামকে ঠাকুরগাঁও, প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদকে সুনামগঞ্জ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো: আব্দুল জলিলকে সিলেট এবং সাবেক নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়কে হবিগঞ্জের উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়।

বাকিদের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেককে পটুয়াখালী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব নাজিমউদ্দীন চৌধুরীকে ভোলা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: আব্দুল হালিমকে বরিশাল, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইসমাইলকে ঝালকাঠি ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মো: তোফাজ্জল হোসেন মিয়াকে পিরোজপুরের দায়িত্ব দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরাকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরীকে কক্সবাজার, বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর আ ল ম আব্দুর রহমানকে চট্টগ্রাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলমকে কুমিল্লা, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরীকে ফেনী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইনকে নোয়াখালী, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে বান্দরবান, বিসিএস প্রশাসন একাডেমির ডিরেক্টর মো: মোশাররফ হোসেনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো: মাকছুদুর রহমানকে চাঁদপুর জেলার উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ৪৫ জন মেনটর নিয়োগসংক্রান্ত আদেশ ১৩ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ স্থগিত করেছে। জেলা প্রশাসনে মেনটর নিয়োগ পূর্ব প্রচলিত। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এটা রুটিন কাজ। এ আদেশটি কমিশন অবহিত নয়। ৮ নভেম্বর আদেশটি করেছিল, ১৩ নভেম্বর স্থগিত করেছে।