ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮

ফেনী প্রতিনিধি

২৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:১১

খালেদা জিয়ার বিকল্প মিন্টু : মহাজোটে শিরিন-নাসিম লড়াই

106_366975_132.jpg
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-১ (পরশুরাম-ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থীতা নিয়ে কোন দ্বিধাদ্বন্ধ নেই। কারাবন্ধী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই এ আসনে দলের প্রার্থী। তবে তার প্রার্থীতা নিয়ে আইনি জটিলতা থাকায় বিকল্প হিসেবে দলের প্রভাবশালী ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে দু’জনের পক্ষেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান জানান, পৈত্রিক বাড়ির এ আসনে বেগম খালেদা জিয়া ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী ছিলেন। এবারো তিনিই এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী। তবে বিকল্প হিসেবেই আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পরশুরাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু তালেব নয়া দিগন্তকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে প্রার্থী হিসেবে পেতে নেতা-কর্মী ছাড়াও স্থানীয় জনগন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে কূটকৌশল করছে। তার বিকল্প ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। ফেনীর সন্তান হিসেবে এলাকায় বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে তারও।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীতা কে পাচ্ছেন এনিয়ে চলছে বেশি জল্পনা-কল্পনা। আওয়ামী রাজনীতির ‘কিং মেকা’ খ্যাত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী নাসিম নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় হিসাবটি আগের চেয়ে বেশি জটিল হয়ে যায়। এখানে বর্তমান সংসদ সদস্য শিরিন আখতার জাসদের সাধারণ সম্পাদক। ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে তিনি এ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হন। এবারো তার প্রার্থীতা নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক মহলে প্রচার থাকলেও শেষ মুহুর্তে নাসিম চৌধুরীকে ঘিরে গোলকধাঁধায় পড়ে যায় দলীয় নেতাকর্মীরা।

ফেনী আওয়ামীলীগের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী নাসিম ভোটের রাজনীতিতে এতদিন আড়ালে থাকলেও হঠাৎ করে তিনি দলে প্রার্থীতা চাওয়ায় প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। দলের নেতাকর্মীরা এ আসনে তাকেই প্রার্থী হিসেবে পেতে দৃঢ় আশাবাদী। তিনি দলের মনোনয়নপত্র নেয়ায় এতদিন মাঠে থাকা অপর তিন মনোনয়ন প্রত্যাশী গতবারের প্রার্থী খায়রুল বাশার মজুমদার তপন, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল ও ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির সভাপতি শেখ আবদুল্লাহ নৌকার প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ান।

অপরদিকে ২০০১ সালের নৌকার প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী লে: কর্ণেল (অব:) জাফর ইমাম বীর বিক্রম, সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন হাজারীসহ কয়েকজন নৌকার প্রার্থীতা চাইলেও মনোনয়ন দৌড়ে তারা সুবিধায় নেই বলে দলের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এখানে দীর্ঘদিন ধরে শিরিন আক্তারকে এড়িয়ে চলছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাকে অবাঞ্ছিতও ঘোষণা করা হয়।

ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার আলাউদ্দিন আহমদ চৌধুরী নাসিম প্রার্থী হতে সম্মত হওয়ায় তার মনোনয়নের ব্যাপারে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দৃঢ় আশাবাদী।

অন্যদিকে শিরিন আক্তারও জাসদের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় মহাজোটে তার অবস্থান সুদৃঢ়। মনোনয়ন প্রশ্নে তিনি বরাবরই বলে আসছেন- ‘মহাজোট যেহেতু আছে তিনিই প্রার্থী হবেন’।