ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮

আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল থেকে

২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:১১

টাঙ্গাইলে নির্বাচনে লড়বেন তিন সহোদর

108_kaer sidiki.jpg
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী সিদ্দিকী পরিবারের তিন সহোদর। হ্যাভিওয়েট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) থেকে সতন্ত্র, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ও টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) এবং তাদের ছোটভাই মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে লড়বেন। সংসদে প্রতিনিধিত্ব পেতে তারা দৃঢ় প্রত্যয়ী এবং সে লক্ষ্যে তাদের কর্মী সমর্থকরা নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন।

সিদ্দিক পরিবারের তিন ভাইয়ের নির্বাচন লড়ার বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে চলছে কঠোর হিসাব-নিকাশ ও মানুষের কাছে হচ্ছে ব্যাপক আলোচিত। নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই ও পারিবারিক ঐতিহ্য-কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এই নির্বাচন সিদ্দিকীদের এসিড চেষ্টা বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। মাঠ পর্যায়ে তিন ভাইয়ের জন প্রিয়তা ব্যাপক। টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ এক সময় ভাবতো তিন ভাই হয়তো বা আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিবেন। গত ৫ নভেম্বর সোমবার বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্য ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার ফলে পাল্টে যায় রাজনীতির চিত্র। তিন সহোদর এর মধ্যে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করলেও অপর দুই ভাই তাদের ব্যক্তিগত পরিচিতি নিয়ে মাঠে লরবেন।

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী :

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে থেকে সতন্ত্র নির্বাচন করবেন। সে লক্ষে লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী সমর্থকরা মোট ভোটারের এক শতাংশ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন।

লতিফ সিদ্দিকী কালিহাতী থেকে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৭৩, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মন্ত্রীত্ব লাভ করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এমপি নির্বাচিত হন। ওই বছরই সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে পবিত্র হজ্ব ও তাবলিক জামাত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে মন্ত্রীসভা, দলীয় পদ থেকে অপসারিত এবং সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন লতিফ সিদ্দিকী। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি নির্বাচিত হন। ওই উপ-নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিলেও ঋণ খেলাপির কারণে তার প্রার্থীতা অযোগ্য ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও হাসান ইমাম খানকেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।

লতিফ সিদ্দিকীর অনুসারী মোশারফ হোসেন সিদ্দিকী ঝিন্টু বলেন নেতা লতিফ সিদ্দিকী নির্বাচন করবেন এই খবরে কালিহাতীতে বইছে আনন্দের জোয়ার। কালিহাতীর আওয়ামী লীগ ও উন্নয়ন লতিফ সিদ্দিকী নিজ হাতে গড়েছেন। আগামী ২৫ নভেম্বর রবিবার নেতা কালিহাতীতে এসে নির্বাচনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিবেন।

নির্বাচন সম্পর্কে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী মোবাইলে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আমি আদর্শিত। কালিহাতীর মানুষের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। মানুষের ভালবাসা ও চাওয়া থেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম :

মুক্তিযুদ্ধের কাদেরীয়া বাহিনীর প্রধান ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা। কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) এবং টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন।

কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে টাঙ্গাইল-৮ (সখিপুর-বাসাইল) থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেড়িয়ে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রয়াত শওকত মোমেন শাজাহানের নিকট পরাজিত হন তিনি। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকেই তিনি ফের এমপি নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৪ কালিহাতী আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী, বিএনপির প্রার্থী শাজাহান সিরাজ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে কাদের সিদ্দিকী প্রতিদ্বন্দিতা করেন। নির্বাচনে তাদের দুইভাইকে পরাজিত করে স্বাধীনতার ইস্তেহার পাঠক শাজাহান সিরাজ এমপি নির্বাচিত হয়ে জোট সরকারের মন্ত্রীত্ব লাভ করেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী দুইটি আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে একাধিক আসনে বঙ্গবীরের নির্বাচন করার সম্ভবনা রয়েছে। রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, কাদের সিদ্দিকীর আইনী জটিলতা নিরসনের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করি তার নির্বাচন করার ক্ষেত্রে এবার কোন সমস্যা থাকবে না। এদিকে কাদের সিদ্দিকীর আরেক ভাই শামীম আল মনছুর আজাদ সিদ্দিকীও টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

মুরাদ সিদ্দিকী :

টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে মুরাদ সিদ্দিকী ২০০১ ও ২০০৮ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে এবং ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে পরাজিত হন। তিনি এবার ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে কয়েক বছর যাবত নিয়মিত সভা, সেমিনার, উঠান বৈঠক ও জনসভা করে চলেছেন। মুরাদ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন।

নির্বাচন সম্পর্কে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, টাঙ্গাইল সদরের উন্নয়ন এবং মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছি। জনগণ আমার সাথে আছেন। ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করবেন কি না এমন প্রশ্নে মুরাদ সিদ্দিকী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যাওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নেই ।