ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮

শহীদুল ইসলাম

৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:১২

চলছে লেবেল প্লেয়িং কার্যক্রম

115_download.jpg
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।নির্বাচনের তারিখ বা তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনিক ক্ষমতা কমিশনের অধিনে আসলেও তারা সেই সেদিকে যায়নি।আওয়ামীলীগ তাদের পছন্দমত অফিসারদের ডিসি, ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনে বসিয়েছে নির্বাচনে সুবিধা নেয়ার জন্য। তারই হয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা।এজন্য মাঠপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে রদবদল চেয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং সুশীল সমাজসহ নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।যাতে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে।কিন্তু ইসি তাতে কর্ণপাত করেনি।ক্ষমতাসীনদের সাজানো প্রশাসনের অধিনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই কার্যক্রম ২ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। ফলাফল যা এসেছে তাতে আর কারো বুঝতে বাকি নেই যে কি হতে যাচ্ছে।বিএনপির ৮১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।সেখানে আওয়ামীলীগের ১ জনেরও বাতিল হয়নি।৬টি আসনে নিএনপির আদৌ কোন প্রার্থী নেই।আমার কাছে মনে হয়েছে এটা দাবিকৃত লেবেল প্লেয়িং এর অর্ধেক। বাকিটুকু বিশেষ অভিযানের নামে গণহারে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের নামে করে চলছে পুলিশ।নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত চলবে। তাহলে প্লেয়িং বা নির্বাচনের দিন ফিল্ড পুরোই লেবেল হবে ।প্রতিপক্ষের কেউ এজেন্টও হবেনা। ভোট দিতেও আসতে পারবেনা।শুধু নৌকায় প্রকাশ্যে সিল মারলেও প্রতিবাদ কর্রা কেউ থাকবেনা। আওয়ামীলীগ সেটাই চায়।ময়দানে প্রতিপক্ষ থাকবেনা।আবারো ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়।

২ ডিসেম্বর প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্টে দেখা যায়, সারা দেশে ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাদ পড়াদের বড় অংশই বিএনপির। বাদ পড়ার বড় কারণ খেলাপি ঋণ। এ ছাড়া আদালতে দন্ডিত হওয়া এবং নানা তথ্যের অসংগতিও এর কারণ। বাদ পড়া প্রার্থীরা ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো-আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিদ্রোহী) হিসেবে যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।এই পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে,রিটার্নিং কর্মকর্তা আর আওয়ামীলীগ যেন একই স্বত্তা।

এবার সারা দেশে ৩৯টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়। বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ২৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাছাইয়ে ২২ দশমিক ৬৪ শতাংশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। ওই নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ২ হাজার ৪৬০ জন। বাছাইয়ে ৫৫৭টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খেলাপি ঋণ ও আদালতে সাজার বাইরে প্রার্থীর সই না থাকা, দলীয় প্রত্যয়নপত্র ছাড়া দলের নাম ব্যবহার করা, হলফনামায় তথ্য গোপন করা, সরকারি সেবা সংস্থার বিলখেলাপি হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে অনেকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

ছোটখাটো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল না করার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিএনপির মহাসচিবের সই মেলেনি, এমন সন্দেহেও কয়েকজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাঁর সই ঠিক আছে।

উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যাঁরা পদে থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় সবার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। অনেকে পদত্যাগ করলেও পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার চিঠি না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আইন অনুযায়ী, লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যায় না। তবে স্থানীয় সরকারের পদগুলো লাভজনক কিনা বা সংসদ নির্বাচন করতে হলে আগে পদত্যাগ করতে হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

গতকাল মনোনয়নপত্র বাতিল করার মাধ্যমে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। যাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করতে পারবেন। ইসির সিদ্ধান্তও মনঃপুত না হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। গতকাল ইসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা আজ সোমবার থেকে আগামী বুধবার (৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ইসিতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। ইসি ৬,৭ ও ৮ ডিসেম্বর আপিলগুলোর শুনানি করে রায় দেবে।

দলওয়ারি হিসেবে বেশি বাদ পড়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও সিনিয়র অনেক নেতা বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন।বিএনপির পক্ষে অবশ্য মনোনয়নপত্রও জমা পড়েছিল বেশি। অর্থাৎ ২৯৫টি আসনে বিএনপির ৬৯৬ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রায় সব আসনে বিএনপি কৌশলগত কারণে একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। কোনো কোনো আসনে দুই থেকে নয়জন বিকল্প প্রার্থীও দেওয়া হয়। বাছাইয়ে ৬টি আসনে বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা–১, বগুড়া–৭, মানিকগঞ্জ–২, রংপুর–৫, জামালপুর–৪ ও শরীয়তপুর–১ আসন এখন বিএনপির প্রার্থীশূন্য।
ক্ষমতাসীন দলের কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ২৬৮টি আসনে আওয়ামী লীগের ২৮১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টির মহাসচিবসহ দলটির কয়েকজনের মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়েছে। ২১০টি আসনে জাতীয় পার্টির ২৩৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ন্যূনতম দুই বছর কারাদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনের যোগ্য নন। দন্ডিত ব্যক্তি সাজা শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পরে নির্বাচন করতে পারেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুটি মামলায় দন্ডিত। ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও ৭ আসনে কারাবন্দী খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। তিনটি আসনেই তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

নির্বাচন–সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ঋণখেলাপী ও সরকারি সেবা সংস্থার বিলখেলাপিরা নির্বাচনে অযোগ্য। বিএনপির বাদ পড়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশ ঋণখেলাপি।

খবর নিয়ে জানা গেছে,কোন কোন প্রার্থীর সাক্ষর সঠিক কিনা এমন সন্দেহ করেও মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু আওয়ামীলীগ।তাদের সব প্রার্থী সহিহ,তাদের কারো নিয়ে রিটানিং কর্মকর্তাদের সন্দেহও হয়নি যেমনটি হয়েছে প্রতিপক্ষের বেলায়।এভাবে একপক্ষের হয়ে যদি নির্বাচন কর্মকর্তারা কাজ করতেই থাকেন বা ক্ষমতাসীনদের রাস্তা পরিস্কার করাটাই দায়িত্ব মনে করেন তাহলে জনগন যে ভোট দিতে পারবেনা তা বোঝাই যায়। আর যদি ভোট দিতে পারে তবে ফলাফল যে ম্যানুপুলেট করবেনা তার কি গ্যারান্টি আছে।
লেখক- সাংবাদিক