ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG

সিটি করপোরেশন নির্বাচন

১৫ এপ্রিল ২০১৮, ১১:০৪

গাজীপুর সিটি নির্বাচন : জমজমাট আসরে দু'দলের নানা হিসাব

44_5.jpg
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ৩১ দিন বাকি। বৃহস্পতিবার ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১৫-১৬ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা (মনোনয়নপত্র) প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ এপ্রিল। ইতোমধ্যে মেয়র পদে ১০ জন, সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের ১৯টি কাউন্সিলর পদের জন্য ৮৭ জন এবং ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৯৪ জন প্রার্থীসহ ৩৯১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচন ক্রমেই জমে উঠছে। বড় দুই দলের প্রার্থীরা নানা সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত। নির্বাচনী মাঠের দুই বড় দলই বর্তমানে ঘর সামাল দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্বাচনী এলাকায় তাদের খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এ দিকে মেয়র পদে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়নি। জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতের প্রার্থী মাঠে।

অপর দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ঘরের বিবাধ মেটাতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে।
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও নির্বাচন পরিচালনাকারী মু. খায়রুল হাসান জানান, আমরা কেন্দ্রের নির্দেশেই মাঠে আছি। জাতীয় নির্বাচনগুলো সাধারণত জোটগতভাবে করা হয়। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে এ বিষয়ে নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এ ছাড়া আমাদের বৃহত্তর শরিক দল বিএনপির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড মাঠে তেমন একটা প্রতিফলিত হয়নি। তৃণমূলে তাদের কোনো নেতাকর্মীকে কাজ করতে দেখা যায়নি। অপর দিকে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রায় দুই মাস আগে থেকেই আমাদের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মেয়র প্রার্থী মহানগরের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সাথে দেখা করছেন, কথা বলছেন। প্রচার ও গণসংযোগের দিক দিয়ে আমরাই এগিয়ে। আবার ২০ দলীয় জোটের সব আন্দোলন ও নির্বাচনে আমরা সব সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়ে আসছি। সেহেতু আমরা আশা রাখি সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আমাদের প্রার্থীকেই ২০ দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শিল্পপতি সোহরাব উদ্দিন জানান, ২০ দলের অন্যতম শরিক হিসেবে তারা সমর্থন চাইতেই পারে। তবে জোটবদ্ধ নির্বাচনে সম্ভাব্যতা যাচাই করে যার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা আছে তাকেই সমর্থন দেয়া হয়। ২০১৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং প্রার্থী অধ্যাপক এম এ মান্নান বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। দল গোছানোর বিষয় জানতে চাইলে, তিনি বলেন বিএনপি আগে থেকেই গোছানো। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সে উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আলহাজ হাসান উদ্দিন সরকারের বাসায় জেলা ও মহানগরের সব নেতাকে নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে দলকে বিজয়ী করতে আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। এ ছাড়া আমার বিশ^াস জামায়াতে ইসলামী যথাসময়ে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করবে। এ বিষয়ে জেলার কোনো জামায়াত নেতার সাথে আপনাদের যোগাযোগ হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় লিয়াজোঁ কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সায়েদুল আলম বাবুল বলেন, দল প্রচার প্রচারণায় পিছিয়ে থাকার কথা ঠিক নয়। আমরা মহানগরের কোনাবাড়ি এলাকায় স্থানীয় নেতাদেরকে নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করেছি। এর আগের দিন কাশিমপুর এলাকায় বৈঠক করেছি। এসব স্থানে আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। শুক্রবার মহানগরের টঙ্গীতে আমাদের মেয়রপ্রার্থীর বাসায় নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে দলের জেলা ও মহানগরের সকল কমিটির নেতাদেরকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আপাতত তৃণমূলে কোনো মিটিং মিছিল করা হচ্ছে না। নির্বাচনের আচরণবিধি ভঙ্গ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড আমরা করব না। আর আমার বিশ^াস জামায়াতে ইসলামী যথাসময়ে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবে।

অপর দিকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে জেলা ও মহানগরের সব নেতাকর্মীকে সম্পৃক্ত করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধির কারণে প্রচার-প্রচারণায় কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নৌকার বিজয়কে নিশ্চিত করতে আমাদের সামর্থ্যরে সবটুকু নিয়োগ করব।
এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, শুক্রবার আমরা মহানগরের কোনাবাড়ি, কাশিমপুর ও জিরানী এলাকায় গণসংযোগ করেছি। সেখানে আমরা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের বিপুল সমর্থন পাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা নির্বাচনে ভালো করব।
প্রসঙ্গত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল বৃহস্পতিবার। তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই হবে ১৫-১৬ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা (মনোনয়নপত্র) প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ এপ্রিল। ২৪ এপ্রিল প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে এবং ১৫ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ৩১ মার্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর এটি হবে এ সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন। এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরতি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।