ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

আবুল কালাম আজাদ

১১ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০১

আরতুগরুল ও এরদোগান

14_14.jpg
মুসলিম বিশ্ব এক চরম যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। না আছে তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, না আছে সঠিক নেতৃত্ব। সবাই তাকিয়ে আছে নতুন কোনো সাহসী যোগ্য নেতৃত্বের দিকে। অনেকেরই বিশ্বাস, রজব তাইয়েব এরদোগান এমন সাহসী নাবিক, লড়াকু যোদ্ধা। তবে অবস্থা বেগতিক, কখন কি হয় কে জানে।

দেশে যুদ্ধের দামামা বাজছে। অঘোষিত ক্রুসেড শুরু হয়েছে। মগের মুল্লুুকের স্বেচ্ছাচারী আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আবার জাতিভেদের মিথ্যা বুলিকে ধর্মের অংশ বানিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। তাই আজ প্রয়োজন ইতিহাস ঐতিহ্য নবীন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার। আর তা হবে বিশেষ করে মুসলিম জাতির জন্য নতুন প্রেরণা। আমরা পূর্বেরও না, পশ্চিমেরও না। আমাদের পরিচয় আমরা মুসলমান। পরিচয় যদি সত্যিকারভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হই, তাহলে বড় মাছ যেমন ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে, তেমনি বড় বড় শক্তি আমাদের গিলে ফেলবে। সে লক্ষ্যেই আরতুগরুলকে আমাদের সামনে হাজির করেছেন এরদোগান।

এটা এক দিকে যেমন বিনোদন দিয়েছে, অন্য দিকে আমরা ইতিহাস-ঐতিহ্য জানতে পারছি। আর সেই বলে বলীয়ান হয়ে নতুন প্রেরণায় সামনে চলার লক্ষ্য স্থির করার চিন্তাভাবনা। এরদোগানকে ক্যারিশমেটিক লিডার বলা হয়।
এরদোগান আরতুগরুল সিরিয়ালে কেন কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেন। এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যইবা কী? এমন একজন নেতার জীবনী নিয়ে আলোচনা করতে হলে অবশ্যই তাকে ইতিহাসের গভীর জ্ঞানে পারদর্শী হতে হবে। সমসাময়িক বিশ্বের সার্বিক বা সম্যক ধারণা থাকা জরুরি।

১২৮০ সালের কথা। যখন মুসলমান সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি লাভ করলেও বিভিন্ন আঞ্চলিক নেতৃত্ব একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস, অন্তর্দ্বন্দ্ব, ক্ষমতা দখল, ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, তদুপরি খ্রিষ্টান নাইটদের ষড়যন্ত্র মুসলিম শক্তির উত্থান রোধকল্পে হেন কাজ করতে তারা পিছ পা হয়। এমনি এক মুহূর্তে তুর্কি ছোট একটি গোত্র কাই বংশের এক লড়াকু যোদ্ধা কিছু সহযোগীকে নিয়ে একের পর এক বিজয় লাভ করতে থাকেন।

ভাবতে বিস্ময় লাগে, শুধু কি শক্তির জোরেই তৎকালীন বিশ্বের পূর্ব ইউরোপ থেকে শুরু করে বিশ্বশক্তিকে করতলগত করে শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করতে সক্ষম হয়েছিলেন? আসলে সাম্রাজ্য বিস্তার এর মূল উদ্দেশ্য ছিল না। নাইটদের কথাবার্তা এবং কার্যাবলি তা প্রমাণ করে। দুনিয়ায় ইসলামের আলো পৌঁছে দেয়াই মূল লক্ষ্য ছিল। আরতুগরুলের কোনো বিজয়ই নিজের সাফল্য মনে করেননি। সবসময়ই তাকে আল্লাহর রহমত দয়া মনে করতেন। আর সে লক্ষ্যেই জীবনকে তুচ্ছ মনে করতেন। শুধু দেশ জয় বা সাম্রাজ্য বিস্তৃতি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তিনি এটাকে মিশন হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধ ছিল তাদের কাছে খেলনা, বরং নাইটদের হাত থেকে মানবতাকে রক্ষা করা এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। সব ভয়কে উপেক্ষা করে অব্যাহত ছিল পথচলা। এ বৈশিষ্ট্যের কারণে নাইটরাসহ অন্যান্য ধর্মের লোকেরা এবং নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ পর্যন্ত দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে শামিল হয়েছে।

সেই প্রেক্ষাপট আজো বিদ্যমান। মুসলিম নেতৃত্ব সেই আগের মতোই ছোট ছোট ভূখণ্ড, ভাষা, বর্ণ অথবা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য মহাব্যস্ত। এটাও বিজাতীয়দের কূটকৌশল যা মুসলিম জাতির নেতারা বুঝতে অক্ষম। এটা যত দিন তারা না বুঝবেন, তত দিন আমাদের ওপর জুলুম-নিপীড়ন আরো বাড়তে থাকবে এবং তা আমাদের লোকদেরই হাতে। যেমনটা দেখা গেছে- নাইটদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে খ্রিষ্টান হওয়ার পরও তাদেরই জাতি-গোষ্ঠীর লোক। তারা ধর্মকে কেবল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। ধর্মের লেবাস পরে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। নারীবিলাস তো ছিলই। সত্যটা সত্যিকারভাবে উপলব্ধি করেছেন। আর সে লক্ষ্যেই বিনোদনের পাশাপাশি জীবনবোধ জাগিয়ে তোলার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন, এই সত্যটা আমাদের প্রাজ্ঞজনরা উপলব্ধি করছেন না; যেভাবে করা উচিত। বলতে গেলে এরদোগানের নিজ প্রচেষ্টায় ও অর্থায়নে আরতুগরুল, সুলতান সোলেমান এবং ক্রুসেডারের মতো অসাধারণ কালজয়ী মেগা সিরিয়াল তৈরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজে এবং তার পরিবার নিয়ে দুর্গম অঞ্চলে স্পটে গিয়ে শুটিং পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং কলাকুশলীদের সাথে হাত মিলিয়ে উৎসাহ জুগিয়েছেন। এটাও তাদের বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে।