ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
সর্বশেষ:

বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০২

এটর্নি জেনারেলের সাহসী উচ্চারণ

ক’দিন আগে ভারতীয় সুপ্রীম কোর্টের চারজন বিচারপতি নিয়ম ভঙ্গ করে প্রধান বিচারপতির আনাচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এ চারজন বিচারপতি ছিলেন প্রধান বিচারপতির পরবর্তী চারজন সিনিয়র বিচারপতি। গুরুত্বপূর্ণ এ চারজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পর এখন কি অবস্থা হলো মিডিয়ায় দেখিনি।

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরিফ অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানে গণতন্ত্র তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে না সেনাবাহিনী এবং বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের কারণে। পাকিস্তানে গিলানী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খুবই নাজুক পরিস্থিতিতে।
বারাক ওবামা হুমকি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা হুমকির বিষয়। অর্থাৎ আমেরিকা চেয়েছিলো পাকিস্তানের বোমা কাস্টডিয়ান হতে তখন গিলানী খুবই সাহসিকতার সঙ্গে সে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। তিনি বারবার চীন সফর করেছিলেন এবং চীন এ বিষয়ে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার পর আমেরিকার তার অপচেষ্টা বন্ধ করেছিলেন।

সেই জিলানীকে পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট আদালত অবমাননার দায়ে বরখাস্ত করেছিলেন। সুপ্রীম কোর্ট বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জার্দারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। গিলানী বলেছিলেন তিনি প্রেসিডেন্টকে অভিযুক্ত করে কোনো চিঠি শাসনতন্ত্র অনুসারে দিতে পারেন না। জাতীয় সংসদ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে অভিশংসন এর ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্ট তাকে আদালত অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন এবং এ অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।

আমাদের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে বিরাট এক ঘটনা ঘটেছিলো। তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো। তিনি বঙ্গবভনে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে কথা দিয়েছিলেন পদত্যাগ করবেন। তিনি তো পদত্যাগ করেননি বরঞ্চ সুপ্রীম কোর্টে প্রমোশন পেয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। অথচ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর তিনি ফাঁসির আসামী সালাউদ্দীন কাদেরের পরিবারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সমস্ত অভিযোগ তিনি বিচারপতি মানিকের সঙ্গে বিতর্কের সময় নিজেই স্বীকার করেছেন। এ লোকটা পর্যায়ক্রমে প্রধান বিচারপতির পদ পর্যন্ত কিভাবে অলংকৃত করলেন তা বিরাট এক প্রশ্ন। বিচারপতি যারা নিয়োগ করেন তারা যদি এতই অমনোযোগী হন তা হলে তো বিচারালয় নরকে পরিণত হবে।

এবার প্রধান বিচারপতি করার সময় অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওহাব মিঞাকে স্থায়ী করা হয়নি। সিনিয়রিটি ডিঙ্গানো রীতি প্রথা বিরোধী হলেও বহু দেশে ডিঙ্গানোর রেওয়াজ রয়েছে। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে সহানুভূতিশীল। আর যুদ্ধাপরাধের বিচার কাজ এখনও শেষ হয়নি। তিনি প্রধান-বিচারপতি থাকলে আরেক বিতর্কের সূত্রপাত হতে পারে। সুতরাং তাকে স্থায়ী না করাটাই ভাল হয়েছে।

এবার প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে সৈয়দ মাহামুদ হোসেন সাহেবকে। প্রথা অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে আর সে অনুষ্ঠানে এটর্নি জেনারেল আমাদের বর্তমান বিচার ব্যবস্থার অনেক দোষত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন। এসব দোষত্রুটির কারণে বিচার ব্যবস্থার ধীরে ধীরে ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। তিনি যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তাতে মনে হয় একটা কায়েমী স্বার্থ সৃষ্টি হয়েছে। যারা বিচার ব্যবস্থাকে পরিচালনা করছে।

আমরা সাধারণ মানুষ যারা কখনও মুখ খুলতে সাহস করিনি, আদালত অবমাননার ভয়ে। সুনির্দিষ্ট কিছু লোক আছে তারা মক্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন তারাই উকিল ঠিক করেন। তারাই আগা গোড়া মামলা পরিচালনা করেন। এটর্নি জেনারেলতো বহু বিস্তারিত কথা বলেছেন। আমরা শুনেছি, যে বেঞ্চ অফিসার বিচারকের ঘরের বাজার পর্যন্ত করে দেন। এটর্নি জেনারেল সাহস করে যা বলেছেন তাতে মনে হয়েছে বিচার ব্যবস্থার ব্যাপক দুর্নীতি ঢুকুছে যা দেশের জন্য কখনও কোন মঙ্গলের বার্তা দেয় না।

বিষয়টা প্রধান বিচারপতির একার পক্ষে সামাল দেয়া সম্ভব হবে কিনা জানি না। আমার মনে হয় সরকারকে বিচারবিভাগ থেকে এসব ত্রুটি সড়াতে মনোযোগী হওয়া উচিৎ। না হয় শেষ পর্যন্ত বিচার বিভাগও শিক্ষা বিভাগের মতো হয়ে যাবে।

অথচ আমরা দেখেছি আমেরিকার প্রধান বিচারপতি জন মার্শাল আমেরিকার প্রতিষ্ঠালগ্নে সহায়তা প্রধান করেছিলেন। বিচার ব্যবস্থা শাসন ব্যবস্থাসহ প্রতিটি ব্যবস্থাকে তিনি সাহায্য করতেন। প্রেসিডেন্ট জেফারসন এর সঙ্গে তার মতের মিল ছিলো না। জেফারন বিশ্বাস করতেন নির্বাচক মণ্ডলীর শুভ বুদ্ধির উপর আর মার্শাল বলতেন আইন প্রয়োজন হলে গণতন্ত্রের আবেগকে সমর্থন করবে প্রয়োজন হলে নিয়ন্ত্রণ করবে।

আমেরিকার শাসনতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তোলার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট জেফারসন এবং প্রধান বিচারপতি জন মার্শালের ভূমিকা ছিলো ঐতিহাসিক। আমরা আশা করব সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এটর্নি জেনারেল অভিযোগগুলো নিরসনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবেন এবং অচিরেই সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্টকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ইমেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাবেন এবং শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে ন্যায্য ও বিজ্ঞ মতামত প্রদান করবেন।

বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলাম লেখক।
bakhtiaruddinchowdhury@gmail.com